লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে ৪ মাসের শিশুর মরদেহ, মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে ৪ মাসের শিশুর মরদেহ, মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিন থেকে চার মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ১৯ বছর বয়সী মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তার মাকে আটক করে। পরে ১ অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেসের ৫২০০ ব্লক আলবা স্ট্রিট এলাকায় একটি ডাস্টবিনের ভেতর অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ছিল চার মাস। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেয় পুলিশের জুভেনাইল ডিভিশনের নির্যাতিত শিশু বিষয়ক বিভাগ। তদন্তের পর ১৯ বছর বয়সী তাকিয়াহ রোশেল বাবার্সকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই আটক করা হয় এবং হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ মার্কিন ডলার।
১ অক্টোবর মামলাটি আরও এগিয়ে যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার্সের বিরুদ্ধে একটি হত্যা এবং একটি শিশুর ওপর গুরুতর নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তার আনুষ্ঠানিক শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আদালত কার্যক্রম ৩০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা লুনা নামে শনাক্ত করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার মায়ের পালক মা লরা লেসি এবং পালক বাবা হারম্যান জনসন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে শিশুটি তাঁদের কাছেই ছিল। পরে তারা শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রেখে যান।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবার ও পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির একটি বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটি সম্ভবত তাদের পরিচিত লুনা। এরপর তারা পুলিশকে শিশুটির ছবি ও অন্যান্য তথ্য দেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক স্থানীয় বাসিন্দা রাতে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে গিয়ে শিশুটিকে দেখতে পান। প্রথমে তিনি শিশুটিকে পুতুল মনে করেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন সেটি একটি শিশু এবং দ্রুত জরুরি নম্বরে ফোন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতার পর পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে ঘটনাস্থলের কাছে একটি অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরি করেন। সেখানে মোমবাতি, ফুল ও বেলুন রেখে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান অনেকে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি—শিশুটির মৃত্যু ঠিক কীভাবে হয়েছে। পুলিশ ও মেডিকেল পরীক্ষকদের তদন্ত চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে শিশুটির মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপটও কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল ও নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও নিয়ে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের সবকিছু আদালতে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বিশেষ করে অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। এ বিষয়ে কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশের নির্যাতিত শিশু বিষয়ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।