যুক্তরাষ্ট্রের আইডল, সাবেক প্রতিযোগী স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন, বাবাকে আর দেখতে চান না মেয়ে
স্ত্রী হত্যায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা ঘোষণার আগে আদালতে বাবার বিরুদ্ধে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন তার দুই মেয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডল, সাবেক প্রতিযোগী স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন, বাবাকে আর দেখতে চান না মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার দায়ে সাবেক ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইডল’ প্রতিযোগী ও সাবেক সংগীত-ধর্মীয় নেতা ক্যালেব ফ্লিনকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, মিয়ামি কাউন্টি কমন প্লিজ কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর জুরি তাকে অ্যাশলিকে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
৪০ বছর বয়সী ক্যালেব ফ্লিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর টিপ সিটির বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনি তার ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী অ্যাশলিকে গুলি করে হত্যা করেন। প্রসিকিউশন জানায়, হত্যার পর ঘটনাটিকে ডাকাতি বা বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং ক্যালেব পুলিশকে জানান, কোনো অনুপ্রবেশকারী তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। তবে তদন্তে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
অ্যাশলি ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও ভলিবল কোচ। হত্যার সময় দম্পতির দুই মেয়েও বাড়িতে ছিল। মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন ক্যালেবের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনে। এক তরুণী চার্চকর্মী অ্যালেইঘা বটনারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, স্ত্রীকে ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছা থেকেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আদালতে উপস্থাপিত বার্তাগুলোতেও অ্যাশলিকে নিয়ে ক্যালেবের বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
তবে সাজা ঘোষণার সময়ও ক্যালেব স্ত্রীকে হত্যার কথা অস্বীকার করেন। আদালতে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি তার দুই মেয়ের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজের কিছু মিথ্যা ও ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি অ্যাশলিকে হত্যা করেননি এবং ভবিষ্যতেও নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
সাজার আগে ক্যালেবের দুই মেয়ের লেখা বক্তব্যও আদালতে পড়ে শোনানো হয়। তাদের বক্তব্যে মায়ের মৃত্যু এবং বাবার ভূমিকা নিয়ে গভীর কষ্ট ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়। বড় মেয়ে অ্যালিসা তার বক্তব্যে বাবাকে উদ্দেশ করে জানায়, তার কর্মকাণ্ড তাদের জীবনে কতটা কষ্ট তৈরি করেছে। বক্তব্যের শেষ দিকে সে স্পষ্ট করে দেয় যে, বাবাকে কারাগারে দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা তার নেই।
অন্য মেয়ের বক্তব্যেও মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং বাবার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সে জানতে চায়, তার মা এমন কী করেছিলেন যার কারণে তাকে এভাবে হারাতে হলো। বক্তব্য পড়ে শোনানোর সময় আদালতে ক্যালেবকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
আদালতের বিচারক জেনিন প্র্যাট ক্যালেবের কর্মকাণ্ডকে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার ও নিষ্ঠুরতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন। ক্যালেবের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয় ব্যবহার করে অন্যদের প্রভাবিত করার বিষয়টিও বিচারকের বক্তব্যে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডারসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ক্যালেবকে মূল হত্যার অভিযোগে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।