ইউক্রেনের ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারে রাশিয়ার সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি, হামলার পাল্টা জবাবের বার্তা

ইউক্রেনের ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারে রাশিয়ার সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি, হামলার পাল্টা জবাবের বার্তা

ইউক্রেনের ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারে রাশিয়ার সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি, হামলার পাল্টা জবাবের বার্তা

ইউক্রেনের ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারে রাশিয়ার সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি, হামলার পাল্টা জবাবের বার্তা


রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্রিটিশ অস্ত্রের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় দাবি করা হচ্ছে, ইউক্রেন যদি ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে মস্কো ইউক্রেনের ভেতরে এবং দেশের বাইরেও ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটির মূল বক্তব্য সত্য হলেও এটি নতুন কোনো তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা নয়; রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৭ আগস্ট একই ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। 

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ইউক্রেন ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে গেলে ইউক্রেনের ভেতরে এবং তার সীমানার বাইরেও ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম রুশ হামলার লক্ষ্য হতে পারে। তিনি ব্রিটেনকে তার বর্তমান নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে পারে। 

রাশিয়ার এই বক্তব্যের পেছনে অন্যতম বিষয় ছিল দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র। ব্রিটেন ইউক্রেনকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং ইউক্রেন এগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহার করেছে বলে মস্কো অভিযোগ করে আসছে। আগস্টের ওই বক্তব্যের এক দিন আগে রাশিয়া অভিযোগ করেছিল, ইউক্রেন রুশ নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রে ব্রিটিশ সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় বেসামরিক মানুষও আহত হয়েছিল। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অনেক দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। 

মস্কোর ক্ষোভ আরও বাড়ে ব্রিটিশ সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর, যার মাধ্যমে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়। রাশিয়া এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনকে আরও গভীরে হামলার সক্ষমতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ব্রিটেন শুধু অস্ত্র সরবরাহকারী নয়, যুদ্ধের সঙ্গে আরও সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়ার বক্তব্যকে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে হামলা শুরুর ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি ছিল শর্তসাপেক্ষ সতর্কবার্তা। অর্থাৎ ইউক্রেন ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালালে তার জবাবে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে মস্কো। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, এই হুঁশিয়ারির পর ব্রিটিশ ভূখণ্ডে রাশিয়ার কোনো প্রকাশ্য সামরিক হামলা হয়েছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে ব্রিটেন ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অবস্থান জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে। আগস্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা স্পষ্ট করেছিলেন। 

রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। আগস্টের সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর রাশিয়া জানায়, ব্রিটেনে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সহায়তা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে। 

এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশে দেওয়া অন্যান্য সতর্কবার্তাও যুক্ত হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়া ন্যাটোকে কালিনিনগ্রাদ নিয়ে কঠোর সতর্কতা দেয়। ১ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং রাশিয়ার ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে নিজেদের হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ চায় না। 

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার রুশ হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত হলে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিধি আরও বড় হয়ে যেতে পারে। কারণ ব্রিটেন ন্যাটোর সদস্য। ফলে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় সরাসরি রুশ হামলা হলে সেটি শুধু মস্কো ও লন্ডনের দ্বিপক্ষীয় সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপরও বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

এ কারণে রাশিয়ার সর্বশেষ বক্তব্যকে সামরিক পদক্ষেপের নিশ্চিত ঘোষণা না বলে কঠোর কৌশলগত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসংগত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে নতুন করে প্রকাশ করা হলেও এর মূল বক্তব্য আগস্টের ২৭ তারিখের রুশ ঘোষণার সঙ্গে মিলে যায়। তাই এটিকে সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর