নিউইয়র্কে পার্কিং মিটারে ভুয়া কিউআর কোড, চালকদের তথ্য হাতানোর চেষ্টা
নিউইয়র্কে পার্কিং মিটারে ভুয়া কিউআর কোড, ৬৪ মিটারে প্রতারণার অভিযোগ; চালকদের আর্থিক তথ্য হাতানোর চেষ্টা, অভিযুক্ত একজন।
নিউইয়র্কে পার্কিং মিটারে ভুয়া কিউআর কোড, চালকদের তথ্য হাতানোর চেষ্টা
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে গাড়ি পার্ক করার সময় অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত পার্কিং মিটারে ভুয়া কিউআর কোড লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিহাই থিওডর এনেস্কু ম্যানহাটনের ৬৪টি পার্কিং মিটারে ভুয়া কিউআর কোডের স্টিকার লাগিয়েছিলেন। এসব কোড স্ক্যান করলে ব্যবহারকারীদের শহরের অনুমোদিত পার্কিং পরিশোধ ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হতো।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভুয়া ওয়েবসাইটটি দেখতে আসল পার্কিং পরিশোধ ব্যবস্থার মতো ছিল। সেখানে গাড়িচালকদের ক্রেডিট কার্ড নম্বর, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, ফোন নম্বর, বিলিং ঠিকানা এবং গাড়ির নম্বরসহ বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হতো।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২৫ সালের জুনে ম্যানহাটনের পূর্ব দশম সড়কের কাছে একটি পার্কিং মিটারে এমন একটি কিউআর কোড দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি প্রথম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। একজন চালক কোডটি স্ক্যান করার পর একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, আসল স্টিকারের ওপর আরেকটি ভুয়া স্টিকার লাগানো হয়েছে। এরপর তিনি নিজের ব্যাংককে সতর্ক করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
এরপর নিউইয়র্কের পরিবহন বিভাগ ম্যানহাটনের পার্কিং মিটারগুলো পরীক্ষা করে। তদন্তে মোট ৬৪টি ভুয়া কিউআর কোড পাওয়া যায় এবং সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।এনেস্কুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার পরিচয় চুরি সংক্রান্ত পাঁচটি অভিযোগ এবং দ্বিতীয় মাত্রার অপরাধমূলক পরিচয় জালিয়াতির ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
ম্যানহাটনের জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। একই সঙ্গে নগর কর্তৃপক্ষ গাড়িচালকদের সতর্ক করে বলেছে, পার্কিংয়ের জন্য মিটারে থাকা কোনো কিউআর কোড স্ক্যান না করে সরাসরি অনুমোদিত পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করতে।