যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেড কর্মকর্তাদের
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেড কর্মকর্তাদের, অর্থনীতিতে বাড়ছে নতুন করে নীতিগত কঠোরতার আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেড কর্মকর্তাদের
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি থাকায় ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ফেডারেল রিজার্ভ কর্মকর্তা।
২৪ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়া ফেডের প্রেসিডেন্ট আনা পলসন বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো জেদি অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কিছুটা কঠোর নীতি প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসও বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরেক দফা সুদহার বাড়ানো যুক্তিসংগত হতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নতুন অর্থনৈতিক তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড নীতিগত সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেডের প্রকাশিত পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে আরও একটি সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই জুলাইয়ে বছরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কর্মকর্তারা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাকও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে ২ শতাংশের ওপরে থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হতে পারে।
তবে ফেড কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি এখনো শক্তিশালী এবং শ্রমবাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল। ফলে মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদ বাড়ালেও বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের তথ্যও এই অবস্থানকে কিছুটা সমর্থন করছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে নেমেছে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম।
অন্যদিকে, সুদ বাড়ার সম্ভাবনা এরই মধ্যে আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মূল্য প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ফেডের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। পরবর্তী সুদহার সিদ্ধান্তে নতুন মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।