নেপালের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তা, জাতিসংঘে অনুদান চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শাহ

নেপালের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তা, জাতিসংঘে অনুদান চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শাহ, ভারত-চীনের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান।

নেপালের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তা, জাতিসংঘে অনুদান চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শাহ

নেপালের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তা, জাতিসংঘে অনুদান চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শাহ


নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, বন্যাটি শুধু নেপালের স্থানীয় দুর্যোগ নয়, পুরো বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। 

শাহ জানান, প্রায় চার সপ্তাহ আগে নেপালের পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৬ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে নেপালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। 

বালেন্দ্র শাহ বলেন, নেপালের বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলন, পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হওয়া, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সংকটকে শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার একটি বড় কারণ হিসেবেও তুলে ধরা হয়। 

পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশকে পুনর্গঠনের জন্য নতুন করে বড় ঋণের বোঝা দেওয়া উচিত নয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যাপ্ত ও কার্যকর অনুদানভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। 

একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন শাহ। তিনি নেপাল, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে একটি ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ গঠনের প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট তথ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়, হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। 

শাহের বক্তব্যে হিমালয়ের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি শুধু নেপাল বা অন্য কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, এর প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত হতে পারে।

জাতিসংঘে শাহের এই বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনকে শুধু একটি দেশের দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ঋণের পরিবর্তে সহায়তাভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন বলে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর