মেলানিয়ার কথা বলতে গিয়ে ‘মার্সিডিজ’ বললেন ট্রাম্প, সামাজিক মাধ্যমে উঠল নানা প্রশ্ন?
মেলানিয়ার প্রশংসার পর ‘মার্সিডিজ’ বললেন ট্রাম্প, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে উঠল নানা প্রশ্ন?
মেলানিয়ার কথা বলতে গিয়ে ‘মার্সিডিজ’ বললেন ট্রাম্প, সামাজিক মাধ্যমে উঠল নানা প্রশ্ন?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পুরোনো বক্তব্যের ভিডিও নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসা করার পরপরই ট্রাম্পকে ‘মার্সিডিজ’ বলতে শোনা যায়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, ট্রাম্প কি মেলানিয়ার নাম ভুলে গিয়েছিলেন?
তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও ও ফ্যাক্টচেক থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স বা সিপিএসি-তে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় ঘটে।
প্রায় ৯০ মিনিটের বক্তব্যের একপর্যায়ে ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়ার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মেলানিয়া একজন অসাধারণ ফার্স্ট লেডি ছিলেন এবং মানুষ তাঁকে ভালোবাসে। এ সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক করতালি শুরু হয়।
এরপর ট্রাম্প বাম দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘মার্সিডিজ, দ্যাটস প্রিটি গুড।’ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছোট ভিডিওটি দেখলে মনে হতে পারে, তিনি মেলানিয়ার নামের পরিবর্তে ‘মার্সিডিজ’ বলেছেন।
কিন্তু ফ্যাক্টচেক সংস্থা পলিটিফ্যাক্টের যাচাই অনুযায়ী, ট্রাম্প তখন তাঁর স্ত্রীকে উদ্দেশ করে কথা বলছিলেন না। তিনি দর্শকসারিতে বসে থাকা মার্সিডিজ শ্ল্যাপের দিকে তাকিয়েছিলেন। মার্সিডিজ শ্ল্যাপ ছিলেন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের হোয়াইট হাউসের কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক এবং সিপিএসি চেয়ারম্যান ম্যাট শ্ল্যাপের স্ত্রী।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই বক্তব্যে ট্রাম্প একাধিকবার মার্সিডিজ শ্ল্যাপের নাম উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ম্যাট ও মার্সিডিজ শ্ল্যাপকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শেষ দিকেও তিনি মার্সিডিজের নাম বলেন। প্রতিবারই তিনি দর্শকসারির ওই দিকের দিকে তাকিয়েছিলেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে বয়স ও স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত বিতর্ক তখনও ব্যাপক ছিল। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প ও জো বাইডেন দুজনের বয়স এবং প্রকাশ্য বক্তব্যে বিভিন্ন ভুল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এর আগে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম গুলিয়ে ফেলা বা ভুল তথ্য বলার উদাহরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
২০২৬ সালেও ট্রাম্পের বয়স ও জ্ঞানীয় সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর তাঁর জ্ঞানীয় পরীক্ষা নিয়ে করা কিছু দাবিও ফ্যাক্টচেকের আওতায় এসেছে। একই সঙ্গে কিছু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ প্রকাশ্যে তাঁর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এসব মন্তব্যকে চিকিৎসাগত নির্ণয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসা-তথ্য জনসাধারণের কাছে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত নয়।
সুতরাং, ‘মেলানিয়ার নাম ভুলে ট্রাম্প মার্সিডিজ বলেছেন’—এই নির্দিষ্ট দাবিটি যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে মেলে না। বরং ২০২৪ সালের সিপিএসি বক্তব্যের একটি অংশ কেটে বা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার কারণে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। পলিটিফ্যাক্টও ওই দাবিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসার কারণ মূলত সামাজিক মাধ্যমে পুরোনো ভিডিওর পুনঃপ্রচার। তাই ভিডিওটি দেখার সময় এর তারিখ ও সম্পূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।