জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, জোরদার নিরাপত্তা
জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করার চেষ্টার অভিযোগে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, জোরদার নিরাপত্তা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের মধ্যেই সদর দপ্তরের আশপাশে একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটেছে। তবে ‘নিরাপত্তা বলয় ভেদ করার চেষ্টা করে এক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার’—এই নির্দিষ্ট দাবিটির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পুলিশ বা সংবাদমাধ্যমের নিশ্চিত তথ্য আমি খুঁজে পাইনি। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ উপলক্ষে নিউইয়র্কে আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, জাতিসংঘ সদর দপ্তর, বিভিন্ন কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিশ্বনেতাদের চলাচলের পথে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস, স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস, এফবিআই, জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সদর দপ্তরের আশপাশে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর, ড্রোনবিরোধী ইউনিট, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, আকাশ ও নৌ নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়েছে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকায় অস্থায়ী বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর রয়েছে।
এর মধ্যেই ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে কয়েক ব্লক দূরে ইস্ট ৪৩ স্ট্রিট ও থার্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এনওয়াইপিডির একটি কুকুর ওই ব্যাগের ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও জরুরি সেবা ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কয়েকটি সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সতর্কতামূলকভাবে একটি ভবন খালি করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি কোনো হুমকি তৈরি করেনি এবং এলাকাটি আবার খুলে দেওয়া হয়।
২৪ সেপ্টেম্বরও জাতিসংঘের আশপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে ভাষণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ হয়। এক পর্যায়ে জাতিসংঘের কাছে একটি বিক্ষোভ থেকে কয়েক ডজন মানুষকে পুলিশ আটক করে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি ও বহু রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ দুটিই অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, বিশ্বনেতাদের মোটরকেড চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়ক বন্ধ রাখা এবং নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, জাতিসংঘ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে সতর্কতামূলকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহজনক বস্তু, বিক্ষোভ ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বনেতাদের চলাচল, জাতিসংঘের কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।