ইরান যুদ্ধে দীর্ঘ মিশনের চাপ, মার্কিন নৌবহরে ৮ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা
ইরান যুদ্ধের সময় দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন ছিল মার্কিন নৌবহর। এই সময় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহরে অন্তত আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইরান যুদ্ধে দীর্ঘ মিশনের চাপ, মার্কিন নৌবহরে ৮ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহরে অন্তত আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা ঘটেছে। মার্কিন নৌবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো নৌসদস্যের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু হয়নি।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাও সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে দেওয়া এক চিঠিতে এই তথ্য জানান। সেখানে বলা হয়, আত্মহত্যার চেষ্টাগুলো শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; পুরো নৌবহরের বিভিন্ন জাহাজ ও ইউনিটের সদস্যরা এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন এই নৌবহরে প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার সামরিক সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে। এক পর্যায়ে রণতরীটি টানা প্রায় ২৮৬ দিন কোনো বন্দরে না গিয়ে সমুদ্রে ছিল বলে মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা এবং যুদ্ধকালীন দায়িত্বের কারণে নৌসদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যায়।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, মোতায়েনের সময় নৌসদস্যদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা ছিল। তাদের পাশে চ্যাপলিন, মনোবিজ্ঞানী, সমাজকর্মী ও অন্যান্য সহায়তাকারী কর্মীরা ছিলেন। তবে দীর্ঘ মোতায়েনের সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টাগুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নৌবাহিনী এখনো দেয়নি।
নৌবাহিনীর নথিতে আরও কয়েকটি পানিতে পড়ে যাওয়া বা পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুজনকে উদ্ধার করা হয় এবং আরেকজনকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার আগেই সহকর্মীরা থামিয়ে দেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নেতৃত্বাধীন নৌবহরের দীর্ঘ যুদ্ধ মোতায়েনের সময় অন্তত আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে ঘটনাগুলো শুধু মূল বিমানবাহী রণতরীতে নয়, পুরো নৌবহরের সদস্যদের মধ্যে ঘটেছে এবং কোনো আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।