সেপ্টেম্বরের বিরল উপকূলীয় ঝড়ের পূর্বাভাসে নিউ ইয়র্কে ভারী বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সেপ্টেম্বরের বিরল উপকূলীয় ঝড়ের পূর্বাভাসে নিউ ইয়র্ক শহরে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সেপ্টেম্বরের বিরল উপকূলীয় ঝড়ের পূর্বাভাসে নিউ ইয়র্কে ভারী বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা

সেপ্টেম্বরের বিরল উপকূলীয় ঝড়ের পূর্বাভাসে নিউ ইয়র্কে ভারী বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা


যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল এবং নিউ ইয়র্ক শহরে সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিরল ও শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড় বা নর-ইস্টার আঘাত হানার সম্ভাবনা তীব্র হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত বছরের এই সময়ে এমন ঝড়ের উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না, যার ফলে এই পূর্বাভাসটি স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মাঝে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে একটি উপকূলীয় ঝড় নগরীতে আঘাত হানতে পারে, যার পূর্বাভাসে আত্মবিশ্বাস দিন দিন বাড়ছে।  


জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সঠিক গতিপথ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও শহরের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় প্লাবন, তীব্র বাতাস, প্রবল বৃষ্টিপাত এবং উপকূলীয় ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেক বেশি। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সপ্তাহান্তে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে ঝড়ের তীব্রতা এবং এর অবস্থান কেমন হবে তা নির্ভর করবে উপকূলে এর চূড়ান্ত গতির ওপর। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের দিনগুলোতে এই ঝড়ের তীব্রতা কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।  


আবহাওয়া চ্যানেল বা দ্য ওয়েদার চ্যানেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুটি ভিন্ন আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রবাহ এই ঝড়ের মূল গতিপথ নির্ধারণ করছে। এর একটি হলো গ্রেট লেকস অঞ্চলের কাছে তৈরি হওয়া উচ্চচাপ বলয় এবং অপরটি হলো পূর্ব উপকূল ধরে উত্তর দিকে ধেয়ে আসা নিম্নচাপ বলয়। এই দুটি বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থা একে অপরের যত কাছাকাছি আসবে, সপ্তাহান্তে বায়ুর গতিবেগ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে।  


বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে এই ঝড়ের মূল রূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠার কথা থাকলেও, এটি কোন দিকে মোড় নেবে—কেপ কডের দিকে, আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে নাকি পুনরায় উপকূলে ফিরে আসবে—তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকে গেছে। কিছু আবহাওয়া মডেল নির্দেশ করছে যে নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি উপকূলে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে পারে। এমনটি হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ভারী বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা এবং চরম উপকূলীয় ক্ষয়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে কিছু মডেলে দেখা যাচ্ছে, ঝড়টি দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়ে শনিবার বিকেলের মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডে পৌঁছে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রারম্ভিক বাতাসের তীব্রতা কিছুটা কম হলেও সপ্তাহান্তের শেষের দিকে ঝড়ের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।  
ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্ক শহরে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা দীর্ঘস্থায়ী দমকা হাওয়া শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বাতাসের গতিবেগ শুক্রবার সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৪৫ মাইলে পৌঁছাতে পারে। সপ্তাহের শেষ ভাগ পার হওয়ার আগেই নগরীতে প্রায় ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হতে পারে। সব মিলিয়ে শুক্রবার ও শনিবার আবহাওয়া সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  
এমন পরিস্থিতিতে শহরবাসীকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি এবং উচ্চ জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রবল উত্তাল পরিস্থিতির কারণে জলযান চলাচলও সীমিত হতে পারে। বিরল এই সেপ্টেম্বর ঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় আবহাওয়া দপ্তর প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য প্রকাশ করছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর