জাতিসংঘে সিএনএনের প্রতিনিধিকে দেখে হঠাৎ করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সিএনএনের সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখে ট্রাম্প সরাসরি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জাতিসংঘে সিএনএনের প্রতিনিধিকে দেখে হঠাৎ করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

জাতিসংঘে সিএনএনের প্রতিনিধিকে দেখে হঠাৎ করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প


আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএনের মধ্যকার সংঘাত এক আলোচিত অধ্যায়। দীর্ঘ দিন ধরেই ট্রাম্প গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন এবং একাধিক সংবাদ সংস্থাকে সরাসরি সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৌঁছানোর পর সিএনএনের প্রতিনিধিকে দেখে ট্রাম্পের করা মন্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে সিএনএনের প্রধান প্রতিনিধি কেটলিন কলিন্স উপস্থিত থাকলে ট্রাম্প হঠাৎ থমকে দাঁড়ান এবং সরাসরি ওই সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনাটির পেছনে রয়েছে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি পটভূমি। ট্রাম্প প্রশাসন কিছুদিন আগেই হোয়াইট হাউস প্রেস প্রাঙ্গণ থেকে সিএনএনসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে জাতিসংঘ একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা হওয়ায় তাদের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম নীতি অনুযায়ী সিএনএনকে অধিবেশন কভার করার অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়। জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে ট্রাম্প প্রবেশ করার সময় সাংবাদিকরা যখন নীতিগত বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন, তখন তিনি উত্তর দেওয়ার বদলে সরাসরি ওই প্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে বলেন যে সিএনএনের এখানে সংবাদ কভার করা উচিত নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের তথ্যের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক চলছে। ট্রাম্পের মতে, কিছু কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য বা বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করে আসছে। অন্যদিকে, গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো এবং সিএনএন কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কেবল সঠিক তথ্য প্রকাশ করা এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা। হোয়াইট হাউসের বিধিনিষেধ তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাংবাদিকরা জাতিসংঘের অনুমতিপত্র ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্প সরাসরি গণমাধ্যমের নাম ধরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সাংবাদিক তার পেশাগত প্রশ্ন বজায় রাখলেও প্রেসিডেন্ট তার ক্ষোভ পুনর্ব্যক্ত করছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাকবিতণ্ডা আন্তর্জাতিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার অবস্থান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশ্বনেতাদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের মুখোমুখি তর্কাতর্কি সচরাচর দেখা যায় না বলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে জোরালো আলোচনা হচ্ছে।


এই ঘটনার পর দুই পক্ষের তরফ থেকেই আইনি এবং নীতিগত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তারা সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে এবং অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা রুখতে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পক্ষান্তরে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ঐক্যবদ্ধভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যাতে মুক্ত সাংবাদিকতার সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ও মূলধারার গণমাধ্যমের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া এই দূরত্ব আগামী দিনগুলোতে কীভাবে সুরাহা হয়, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর