নিউইয়র্কে পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণতা, বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে পুরোনো বন্ধু বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নিউইয়র্কে পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণতা, বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের (সিজিআই) ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এবারের সিজিআই বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যেও এবারের সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ড. ইউনূসের নাম রয়েছে। একই আয়োজনে বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটন ও চেলসি ক্লিনটনও অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনের ফাঁকেই বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ হয়। তিনজনের পরিচয় ও যোগাযোগ কয়েক দশকের পুরোনো। বিশেষ করে ক্ষুদ্রঋণ ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত করে তোলা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আর্থিক সুযোগ তৈরির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ড. ইউনূস ও ক্লিনটন পরিবারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এই সম্পর্কের শিকড় ১৯৮০-এর দশকে। ড. ইউনূসের নিজের লেখায় উল্লেখ রয়েছে, আরকানসাসের গভর্নর থাকাকালে বিল ক্লিনটন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির উপায় খুঁজছিলেন। ১৯৮৬ সালে ওয়াশিংটনে ড. ইউনূসের সঙ্গে বিল ও হিলারি ক্লিনটনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং আরকানসাসে একই ধরনের উদ্যোগ চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখান ক্লিনটন দম্পতি।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা অনুসরণ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রাথমিক আন্তর্জাতিক সমর্থকদের একজন হিসেবে বিল ক্লিনটনের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং আর্থিক সেবার বাইরে থাকা মানুষের কাছে ঋণের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়ে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনটন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির সংগ্রহেও ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্লিনটন হোয়াইট হাউস ও ড. ইউনূসের মধ্যকার যোগাযোগসংক্রান্ত নথি সংরক্ষিত রয়েছে।
১৯৯৫ সালে হিলারি ক্লিনটন তাঁর মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে দরিদ্র ও বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করছে, সে সম্পর্কে ধারণা নেন। ড. ইউনূসের লেখাতেও হিলারি ক্লিনটনের ওই সফর এবং ক্ষুদ্রঋণের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
কয়েক দশকের সেই পরিচয়ের ধারাবাহিকতায় এবার নিউইয়র্কে আবারও একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিলিত হলেন ড. ইউনূস এবং ক্লিনটন দম্পতি। ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের প্রকাশিত ছবির তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বরের একটি অধিবেশনে ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটন ও চেলসি ক্লিনটনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
সিজিআইয়ের এবারের সম্মেলনে গণতন্ত্র, জনস্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের মতো বিষয় আলোচনায় রয়েছে। সংকট ও সীমিত সম্পদের মধ্যেও কীভাবে বাস্তবসম্মত সমাধান এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটিই সম্মেলনের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।