জাতিসংঘের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দীর্ঘ আলোচনা, কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও অর্থনৈতিক চাপ কমানো নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
জাতিসংঘের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দীর্ঘ আলোচনা, কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির প্রতিনিধিদলের যোগাযোগ হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই আলোচনা নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। তিনি আলোচনাকে গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনাটিকে ভালো বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি বসে পুরো আলোচনা করেছেন—এমন বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীরা যাতায়াত করে বার্তা আদান-প্রদান করেন। মার্কিন প্রতিনিধিদল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই আলোচনায় যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
এই যোগাযোগের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় যাওয়া হবে, নাকি সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হবে—এ নিয়ে তাঁর সামনে বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। একই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ও সামরিক চাপ কমানো, অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়কে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করাও সম্ভাব্য সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাসও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক পথ এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি, যুদ্ধবিরতি বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। ফলে সাম্প্রতিক আলোচনা কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। আপাতত দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে কি না এবং হরমুজসহ মূল বিরোধের বিষয়গুলোতে কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান নজর।