শত্রুকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতির বার্তা ইরানের আইআরজিসির

শত্রুর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির; দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখছে ইরান।

শত্রুকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতির বার্তা ইরানের আইআরজিসির

শত্রুকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতির বার্তা ইরানের আইআরজিসির


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলা বা ‘ভুল হিসাবের’ কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত থাকার দাবি করেছে বাহিনীটি। 

আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে যুদ্ধের জন্য ‘শতভাগ প্রস্তুত’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি শুধু স্বল্পমেয়াদি সংঘাত নয়, প্রয়োজনে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করেছে। তবে সামরিক প্রস্তুতির অর্থ এই নয় যে তেহরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। 

মোহেব্বির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের জাতীয় স্বার্থই ঠিক করবে কখন যুদ্ধ এবং কখন আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আলোচনাকেও আরেক ধরনের ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তেহরান।

এর আগে আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপগুলো পরিদর্শনের পর সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষের যেকোনো ‘ভুল হিসাবের’ শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্যের কথা জানানো হয়েছে। 

আইআরজিসির এই অবস্থানের সঙ্গে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও মিল রয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ও খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা পিছিয়ে যাবে না। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের আরও পরাজয়ের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এটি ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব দাবি ও ভাষ্য। 

আইআরজিসির মুখপাত্রের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত তাদের প্রতিপক্ষের আঞ্চলিক সামরিক অবস্থানের কিছু দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন উপস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। এসব মূল্যায়ন আইআরজিসির দাবি; স্বাধীনভাবে এগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই করা কঠিন।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে আইআরজিসি অভিযোগ করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। ওই সময় বাহিনীটি দাবি করে, পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আরও জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ছিল। 

আইআরজিসির সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুটি বার্তা পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে—একদিকে সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে আলোচনার দরজাও খোলা রাখা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর