জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাজেট সংকট দূর করার আহ্বান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যেখানে তিনি শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাজেট সংকট দূর করার আহ্বান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাজেট সংকট দূর করার আহ্বান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের


বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা যুদ্ধ, সংঘাত এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা শান্তি রক্ষা মিশনগুলোতে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জাতিসংঘের কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি কমে যাচ্ছে।  


জাতিসংঘের সদর দফতরে আয়োজিত এই সভায় মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধের ধরন এবং ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় শান্তি রক্ষা মিশনগুলোর কার্যপরিধি এবং নিয়মকানুন আগের মতোই রয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে নিয়োজিত শান্তি রক্ষীদের নিয়মিত আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে। একই সাথে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ঘটছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে শান্তি রক্ষা মিশনে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী।  


সংগঠনটির সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে গুতেরেস উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে প্রতিটি অর্থ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়িয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রতিটি আন্তর্জাতিক মিশনের সফলতা নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ নীতি এবং উপযুক্ত অর্থায়নের ওপর। কেবল বাজেট কমিয়ে বা নিয়ম শক্ত করে যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়।  
গুতেরেস আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক নতুন সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষ এবং সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোর নাগরিকরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর আস্থা রাখেন। নীল হেলমেট পরিহিত এই শান্তিরক্ষীরাই সাধারণ মানুষের কাছে শেষ ভরসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন। এই আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শান্তির পেছনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না করলে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।  


জাতিসংঘ প্রধান বলেন, কেবল নির্দেশিকা বা বাজেট অনুমোদন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত নারী ও পুরুষদের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত মৌলিক দায়িত্ব। নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্য দেশকে ভেদাভেদ ভুলে একযোগে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার জন্য জোর দাবি জানান গুতেরেস।  


সমাপনী বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করার বিকল্প নেই। যুদ্ধের ছায়ায় বসবাসকারী অসহায় মানুষদের বিশ্বাস ও ভরসার মর্যাদা দিতে প্রতিদিন শান্তির পক্ষে অর্থায়ন ও নীতিগত সমর্থন বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্বের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় পর্যাপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার ভাষণ শেষ করেন।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর