দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উৎসবমুখর প্রস্তুতি

রাষ্ট্রপতির গ্রিন সিগন্যালের পর বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সমাবর্তনের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে।

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উৎসবমুখর প্রস্তুতি

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উৎসবমুখর প্রস্তুতি


বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার সর্ববৃহৎ ক্ষেত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সমাবর্তনের আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই খবর প্রকাশের পর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন স্নাতকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


গত রোববার ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। এতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষাবিষয়ক অগ্রগতি, সেশনজট নিরসনের পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাজুয়েটদের সনদ ও সম্মাননা প্রদানের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। 
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপাচার্যের আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন বলে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান সমাবর্তনটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। চ্যান্সেলরের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক আশ্বাস ও সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই সময় নষ্ট না করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে।  
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত মাত্র একবার সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তন। এর পর থেকে বহু বছর পার হয়ে গেলেও নানা প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আর কোনো সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি অর্জন করেও সমাবর্তনের অনন্য অনুভূতি ও স্বীকৃতি লাভ করা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। দীর্ঘ সাত-আট বছর পর পুনরায় এই ধরনের বৃহৎ এক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়াকে দেশের শিক্ষাবিদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ইতিবাচক ও মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সবচেয়ে বড় এই শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর মূল কেন্দ্রস্থলই হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে এই বিশাল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনের খবরটি নিছক একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি তাদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের হাড়ভাঙা খাটুনি, পরিশ্রম এবং ত্যাগের এক মহা মিলনমেলা। এই সমাবর্তনের মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রির প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ঘটে, যা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় ও মূল্যবান অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে।  
সমাবর্তন উদযাপনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কত সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে কত সালের শিক্ষাবর্ষের গ্রাজুয়েটরা এতে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন, সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বিশ্ববরেণ্য বা দেশের কোন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব আমন্ত্রিত হবেন, রেজিষ্ট্রেশন ফি ও গাউন বিতরণের নিয়মাবলী কেমন হবে এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট ভেন্যু কোথায় নির্ধারণ করা হবে—এসব সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবে কর্তৃপক্ষ।  
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সমাবর্তনটি যাতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, ত্রুটিমুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরणीय একটি দিন হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর এমন আয়োজনের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দেশের বিভিন্ন কলেজের ক্যাম্পাসগুলোতে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন এবং অধীর আগ্রহে সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছেন।

 




সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর