ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনার আগুন, তেহরানে নাকভিকে পাশে নিয়ে কূটনীতির নতুন চাল পেজেশকিয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তেই তেহরানে পাকিস্তানের নাকভির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের বৈঠক, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল ইরান ও পাকিস্তান।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনার আগুন, তেহরানে নাকভিকে পাশে নিয়ে কূটনীতির নতুন চাল পেজেশকিয়ানের

ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনার আগুন, তেহরানে নাকভিকে পাশে নিয়ে কূটনীতির নতুন চাল পেজেশকিয়ানের


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

পেজেশকিয়ান বৈঠকে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক যোগাযোগ দুই প্রতিবেশী দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, ইরান ও পাকিস্তান নিজেদের মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক অনেক চাহিদা পূরণ করতে পারে। 

অন্যদিকে মহসিন নাকভি জানান, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী। বাণিজ্য, অর্থনীতি, পর্যটন, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি জ্বালানি এবং যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাকভি দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে উচ্চ পর্যায়ের বলে উল্লেখ করেছেন। 

এই সফরের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার কারণে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি নাকভির ষষ্ঠ তেহরান সফর। পাকিস্তান ও কাতার সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। 

পাকিস্তানের ডন পত্রিকা কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান–নাকভি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে আবার সংলাপে ফেরার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের সরকারি বিবরণে ভিন্ন চিত্র রয়েছে—ইরানি প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রকাশিত বৈঠকের বিবরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কোনো উল্লেখ করা হয়নি। ফলে মধ্যস্থতা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যকে এখনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

নাকভি পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। মোমেনি আঞ্চলিক শান্তির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সামরিক নেতৃত্বের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। 

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তাদের শর্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। তেহরানের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ বা অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধের অবসানের বিষয় রয়েছে। 

নাকভির তেহরান সফর এমন সময়ে হলো, যখন একদিকে ইরান ও পাকিস্তান নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে, অন্যদিকে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর