টাঙ্গাইলে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ব্রিজের ঢালাই, নেওয়া হলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ব্রিজের ঢালাই! টাঙ্গাইলে নির্মাণ অনিয়মের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ। বিষয়টি সামনে আসতেই এলজিইডিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ও সাব-কন্ট্রাকটর আটক।
টাঙ্গাইলে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ব্রিজের ঢালাই, নেওয়া হলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে, একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের সাব-কন্ট্রাকটরকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এলজিইডির নথি অনুযায়ী, বাসাইল উপজেলার মাইজখাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজটির কাজ ২০২০ সালে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএম জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির জন্য প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এসএম জাহাঙ্গীর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি টাঙ্গাইল-৮ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের ঘনিষ্ঠ।
অভিযোগ উঠেছে, ব্রিজটির নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত নির্মাণমান অনুসরণ না করে রডের পরিবর্তে বাঁশ এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি নির্মাণকাজের একটি অংশে বাঁশ ব্যবহারের দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগের পর ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে অবহিত করা হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক কৈফিয়ত তলবপত্রে টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন ও বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের কাছে নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কৈফিয়ত তলবপত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধির উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাসাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় নির্মাণকাজের সাব-কন্ট্রাকটরকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নথিতে ব্রিজটি ‘গ্রামীণ সেতু সহায়তা কর্মসূচির’ আওতাধীন বলে উল্লেখ রয়েছে। বাসাইল জিসি-কাওয়ালজানি ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের মাইজখাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ চলছিল। প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর ২১-২২/ডব্লিউ-২৯২ এবং চেইনেজ ২৩০৫ মিটার।
নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।