কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নিয়ম চান অ্যালবানিজ তবে ট্রাম্পের ভিন্ন সুর

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নীতিমালার জোর তাগিদ দিয়েছেন, যেখানে মার্কিন নীতিতে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নিয়ম চান অ্যালবানিজ তবে ট্রাম্পের ভিন্ন সুর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক নিয়ম চান অ্যালবানিজ তবে ট্রাম্পের ভিন্ন সুর


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফরের প্রাক্কালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম 'এবিসি ইনসাইডার্স'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক দরবারে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট 'গার্ডরেইল' বা নিরাপত্তামূলক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে তিনি সোচ্চার হবেন। অ্যালবানিজের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে দ্রুতগতিতে বিকাশ লাভ করছে, তাতে মানবজাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী একটি ঐক্যবদ্ধ নীতিমালা বা ফ্রেমওয়ার্ক থাকা জরুরি, যাতে এই প্রযুক্তির ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।


তবে বিশ্ব রাজনীতির আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ঠিক এর বিপরীতে। ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি বা হুমকিকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর দিক নিয়ে তৈরি হওয়া ভয়কে 'ভিত্তিহীন' এবং 'ষড়যন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা, চীনের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মার্কিন প্রযুক্তির গতি কোনোভাবেই ধীর করা যাবে না। যদিও মার্কিন প্রশাসন এই বিকাশ পর্যবেক্ষণ করতে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে, তবে কড়া কোনো আইনি বা সুরক্ষামূলক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করতে তারা নারাজ।  


দুই বিশ্বনেতার এই দৃষ্টিভঙ্গির বৈপরীত্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে অ্যালবানিজ মনে করেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশ্ববিখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রধানরাও যেখানে নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিচ্ছেন, সেখানে মার্কিন নীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান পুরো বৈশ্বিক উদ্যোগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিত্যনতুন উদ্ভাবন যেমন বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, ভুয়া তথ্যের বিস্তার, কপিরাইট বা স্বত্বাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া এবং গোপনীয়তার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই বাস্তবতায় অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে নিজের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহীসহ প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য প্রভাবশালীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নীতিগতভাবে বিশ্বনেতাদের এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন বা রূপরেখা বাস্তবায়নের কাজকে বেশ জটিল করে তুলেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরার এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর