সৌদি আরবের সুরক্ষায় চূড়ান্ত সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দিল পাকিস্তান

সৌদি আরবের যেকোনো বিপদে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার পূর্ণ বার্তার মাধ্যমে আবারও পুনর্ব্যক্ত করল পাকিস্তান ।

সৌদি আরবের সুরক্ষায় চূড়ান্ত সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দিল পাকিস্তান

সৌদি আরবের সুরক্ষায় চূড়ান্ত সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দিল পাকিস্তান


মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তাদের অবস্থান আবারও পরিষ্কার করল। দেশটির সামরিক বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মুখপাত্র জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো শক্তি যদি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে পাকিস্তান চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের হুমকির মুখোমুখি হতে রিয়াদকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দুই দেশের মধ্যকার বন্ধন শুধুমাত্র সাধারণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বা অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সুদীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব। ১৯৬০ সালের দশক থেকেই সামরিক প্রশিক্ষণ, উপদেষ্টা পাঠানো এবং কৌশলগত সহায়তার ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এবং পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতা সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এমন ঘোষণা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনসের প্রধান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সৌদির ওপর যেকোনো আক্রমণ বা আগ্রাসনকে পাকিস্তান নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক চুক্তি এবং যৌথ মহড়ার মাধ্যমে নিয়মিতভাবেই এই প্রতিরক্ষামূলক সংযোগ সুসংগঠিত রাখা হয়। পাকিস্তানের সেনাসদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অবদান রেখে আসছেন। নতুন এই প্রতিশ্রুতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা পৌঁছাল। 


 
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে যেসব রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে পাকিস্তানের এই দৃঢ় অবস্থান সৌদি সরকারের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করবে। ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্রতম নগরী মক্কা ও মদিনা সৌদি আরবে অবস্থিত হওয়ায়, মুসলিম বিশ্বের সাধারণ নাগরিক এবং সামরিক বাহিনীগুলোর কাছে এই দেশের নিরাপত্তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনী বিভিন্ন সময়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ওই পবিত্র ভূমিগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না।


বিশ্লেষকদের মতে, আরব সাগরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক দূরত্ব খুবই কম। ফলে এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এমন ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব পায়। রিয়াদের সাথে ইসলামাবাদের এই প্রকাশ্য সামরিক সংহতি কেবল দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভাইচারাকেই শক্তিশালী করে না, বরং আঞ্চলিক যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সুদৃঢ় বার্তা পাঠায়। অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক নানা অস্থিতিশীলতার মধ্যেও নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু সৌদি আরবের প্রতি এই বিশ্বস্ততা প্রকাশ করে পাকিস্তান বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরল।


পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রের সাক্ষাৎকারটি মূলত দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের গভীরতার এক প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্ব্যক্তকরণ। কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক সুরক্ষার এই জোড়া আশ্বাস অনাগত দিনগুলোতে দুই মুসলিম প্রধান দেশের নিরাপত্তা সমঝোতাকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ভূ-রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর