পুতিনের সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন উদ্যোগ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ ও কুশনার। মস্কোর পর এবার কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় বসেছেন তারা।
পুতিনের সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠক, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন উদ্যোগ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধ বন্ধ বা শান্তিচুক্তির বিষয়ে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৈঠকের পর পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ছিল গঠনমূলক, খোলামেলা ও কার্যকর। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।
মস্কোয় বৈঠকের পরদিন উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যান। সেখানে তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ ও শান্তি আলোচনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনা এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আকাশপথে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভে আলোচনার সময় হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সম্মতি হয়েছিল বলে জানা গেছে। এতে অন্তত আলোচনার সময় উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ গত কয়েক মাসে কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনাও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মনোযোগের বড় অংশজুড়ে ছিল। এর মধ্যেই আবার মস্কো ও কিয়েভে মার্কিন দূতদের ধারাবাহিক সফর নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার মতো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তাই পুতিন, উইটকফ ও কুশনারের বৈঠককে শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হয়ে গেছে এমন দাবি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।