আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা!

বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে নতুন এক সমীক্ষায় সতর্ক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা!

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা!


শিক্ষানীতি, অভিবাসন আইন এবং আদালত থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার পথে রয়েছে। আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ সংগঠনের দেওয়া তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি কেবল শিক্ষার মানের ওপরই প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশটির সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করছে। আগামী দিনগুলোতে এর জের টেনে লাখ লাখ চাকরির বাজার এবং বড় আকারের জাতীয় রাজস্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।


আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগমন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক ভিসা সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও কঠোর নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে ভিসা পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং আবেদনের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বাধার কারণে বহু যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পড়ার ঠিকানা হিসেবে বেছে নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। এ সম্পর্কিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, প্রায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার নবাগত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পূর্বের চেয়ে অনেক কম অনুভব করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশটির বহু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগার ও বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম হুমকির মুখে পড়বে।


এরই মধ্যে প্রশাসনিক কিছু বিধিনিষেধ ও অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ঘিরে আইনি জটিলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। পূর্বে জারি করা এক বিশেষ নির্দেশে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের একটি সর্বোচ্চ মেয়াদ ঠিক করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এই উদ্যোগ কার্যকর করা হলে চার বছর মেয়াদি বা উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি সম্পন্ন করা বহু শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে গবেষণায় তাদের অবদানের বিষয়টি থমকে যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্তের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। আদালত এটি স্বীকার করেছে যে, হঠাৎ করে এমন বিধি আরোপ করা হলে দেশের শিক্ষা খাত ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে এশিয়ার বৃহৎ জনসংখ্যাবহুল এলাকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি। এদের বড় একটি অংশ বিপুল পরিমাণ টিউশন ফি দিয়ে পড়ালেখা করার পাশাপাশি বাসস্থান, দৈনিক খাদ্যসামগ্রী, পরিবহন খাত ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরাসরি খরচ করেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশাল কেনাকাটা ও জীবনযাপন স্থানীয় বাজার সচল রাখতে সহায়ক হয়। ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থী আগমন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেলে ক্যাম্পাসগুলোর আশেপাশের ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি পরোক্ষভাবে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।


জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসন তদারকির অজুহাতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোরতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি অন্য বার্তা দিচ্ছে। উচ্চতর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের প্রসারে বৈশ্বিক মেধার যে সমাগম যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন হয়ে এসেছে, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা খাতের প্রধানদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কেবল অর্থনৈতিক লাভের অংশীদার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, দেশের উদ্ভাবন চালিকাশক্তি অক্ষুণ্ন রাখতেও তাদের গুরুত্ব অপরিসীম। আইন, বিচারালয় এবং সরকারি দপ্তরগুলোর এই টানাপোড়েনের মাঝে শেষ পর্যন্ত শিক্ষা কাঠামোর ক্ষতি পোষানো কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর