ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ ও বাড়ির খরচ বাড়ছে
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়াল ফেডারেল রিজার্ভ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও ঋণের খরচ বাড়ায় নতুন চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ ও বাড়ির খরচ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের তুলনামূলক কম সুদের যুগ বদলে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকা এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকার প্রেক্ষাপটে ফেডারেল রিজার্ভ সম্প্রতি নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন ঋণসহ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বাজারে দেখা যাচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আজকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এমন কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে, যার কারণে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নয়, বাজারের দীর্ঘমেয়াদি সুদের হারও তুলনামূলক উঁচু থাকতে পারে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বড় বাজেট ঘাটতিকে এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।
সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে। এপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশে উঠেছে, যা গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে নতুন বাড়ি কিনতে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মাসিক কিস্তির বোঝা বাড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের বাজারেও চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ এবং সরকারি অর্থায়নের চাহিদা একই সময়ে বাড়ায় ঋণের বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন সরল চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধাক্কার মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ধনী ভোক্তাদের ব্যয় এবং প্রযুক্তি খাতের বড় বিনিয়োগ এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমস্যা হচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সব পরিবারের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, জ্বালানি, আবাসনসহ দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি থাকায় বাড়ি, গাড়ি কিংবা অন্য বড় কেনাকাটায় অর্থায়নও ব্যয়বহুল হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং কম সুদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এপির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেডের নীতিই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ নির্ধারণের একমাত্র কারণ নয়। সরকারি ঋণ, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশাও দীর্ঘমেয়াদি সুদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অর্থনৈতিক সময়ে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার পাশাপাশি থাকতে পারে। সাধারণ আমেরিকানদের জন্য এর সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব হতে পারে বাড়ি কেনা ও ঋণ নেওয়ার খরচ বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ।