ন্যাম ভবনে এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্ত চলছে।

PostImage

ন্যাম ভবনে এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার


রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ন্যাম ভবন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরিয়ম খাতুনকে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ শুরু করেন। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি। তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, মৃত্যুর আগে সেখানে কী ঘটেছিল এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

মরিয়ম খাতুন এর আগে সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন। সম্প্রতি তাকে নিয়ে একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিএম নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, মরিয়ম খাতুন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই বিষয়টি নিয়ে তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

এরপর থেকেই মরিয়ম খাতুনের পরিচয় ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছিল। সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই রাজধানীর ন্যাম ভবনে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। তদন্তকারীরা মরিয়মের মৃত্যুর আগে ও পরের পরিস্থিতি এবং ঘটনাস্থলের সামগ্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা, হত্যা বা অন্য কোনো ঘটনা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর