উত্তর মেরুতে ডেনমার্কের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যৌথ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত

আমেরিকা, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তি উত্তর মেরু অঞ্চলে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

উত্তর মেরুতে ডেনমার্কের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যৌথ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত

উত্তর মেরুতে ডেনমার্কের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যৌথ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত


উত্তর মেরু অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড ভূ-রাজনৈতিক রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই দ্বীপটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগত এই অঞ্চলটিতে চীন এবং রাশিয়ার বাড়তে থাকা সামরিক ও অর্থনৈতিক নজরদারির জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরেই অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ হলেও ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারের মূল রাজনৈতিক অধিকার ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে।


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে একটি ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যেকোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন। ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বহুপাক্ষিক এই চুক্তিটি নিশ্চিত করেছে যাতে কোনো আঞ্চলিক ভূখণ্ড বলপ্রয়োগ বা অনিয়মতান্ত্রিক দখলের শিকার না হয়। ম্যাক্রোঁর মতে, আইন মেনে এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে সম্পাদিত যেকোনো চুক্তি উত্তর মেরু অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ সুগম করবে।


মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চুক্তির ফলে উত্তর মেরু এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার সুযোগ এবং ঘাঁটি পরিচালনা করতে পারবে। তবে এর বিনিময়ে আমেরিকা নিশ্চিত করেছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক মালিকানা ডেনমার্ক এবং স্থানীয় জনগণের হাতেই থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি এই দ্বীপে অনুমতি ছাড়া কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারবে না।


ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত নেতৃবৃন্দও চুক্তি পরবর্তী সময়ে তাদের স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তর মেরুর ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বড় ধরনের ভূমিকা রাখল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান শক্তি হিসেবে ফ্রান্স এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির বড় এক বিজয় বলে মনে করছে, যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর