রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা, ব্রিটিশ পরিবারকে খাবার-পানি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ, সাইবার হামলা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ পরিবারকে ঘরে খাবার-পানি মজুত রাখার পরামর্শ দিল সরকার।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা, ব্রিটিশ পরিবারকে খাবার-পানি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের শঙ্কা, ব্রিটিশ পরিবারকে খাবার-পানি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ


ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাশিয়ার সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনা, বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং চরম আবহাওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি সামনে রেখে নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে বলছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঘরে কয়েক দিন চলার মতো খাবার ও পানি রাখার পাশাপাশি টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাটারিচালিত বা হাত দিয়ে চালানো রেডিও, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 


বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলেও যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব নথি বলছে, এটি শুধু সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়। যুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় হুমকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বিঘ্ন, বন্যা, ঝড়, তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো যাতে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিই সরকারের প্রস্তুতি কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। 


যুক্তরাজ্য সরকারের Resilience Action Plan: 2026 Implementation Report-এ বলা হয়েছে, গত এক বছরে দেশটির সামনে ঝুঁকির পরিবেশ আরও জটিল ও পরস্পর-সংযুক্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত, রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ব্রিটিশ সরকার যে ধরনের সরাসরি যুদ্ধের নিচের পর্যায়ের তৎপরতার কথা বলছে, বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা আবহাওয়ার ঘটনাকে বর্তমান ঝুঁকির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 


এ কারণে শুধু সামরিক ও সরকারি ব্যবস্থাই নয়, সাধারণ নাগরিকের প্রস্তুতিকেও জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার অংশ হিসেবে দেখছে লন্ডন। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সংকট প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরকারি সেবার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। 


নতুন National Risk Register 2026-এ যুক্তরাজ্যের সামনে থাকা গুরুতর বিভিন্ন ঝুঁকির হালনাগাদ মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪ জুলাই প্রকাশিত এবং ১২ আগস্ট হালনাগাদ করা এই নথি সরকারের National Security Risk Assessment-এর জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য সংস্করণ। এতে বিভিন্ন ঝুঁকি যুক্তরাজ্য ও দেশটির স্বার্থের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তার মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে। 


সাইবার হামলার ঝুঁকিও এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলা National Risk Register-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চরম আবহাওয়া ও সাইবার হামলার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে, তা জানাতে জাতীয় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানিয়েছে সরকার।


তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ আসন্ন বলে ঘোষণা করেছে। বরং সরকারি পরিকল্পনায় রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি বৃহত্তর ঝুঁকি কাঠামোর একটি অংশ। একই প্রস্তুতির আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবকাঠামো বিকল হওয়া, পানি বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিও রয়েছে।

পরিবারগুলোর জন্য সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের একটি হচ্ছে জরুরি সরঞ্জামের একটি কিট প্রস্তুত রাখা। এতে ব্যাটারি বা হাত দিয়ে চালানো টর্চ, মোবাইল চার্জের পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাটারি বা হাত দিয়ে চালানো রেডিও, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ভেজা টিস্যু, বোতলজাত পানি এবং রান্না ছাড়াই খাওয়া যায় এমন দীর্ঘস্থায়ী খাবার রাখার কথা বলা হয়েছে। 

পানির বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আরও নির্দিষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকারের Prepare ওয়েবসাইট বলছে, শুধু বেঁচে থাকার মৌলিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিদিন জনপ্রতি অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানীয় পানি রাখা যেতে পারে। রান্না ও প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনও ধরলে প্রতিদিন জনপ্রতি প্রায় ১০ লিটার পানি পরিস্থিতিকে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক করতে পারে। শিশু, পোষা প্রাণী ও কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য আরও পানির প্রয়োজন হতে পারে।

খাবারের ক্ষেত্রেও এমন পণ্য রাখতে বলা হয়েছে যেগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং বিদ্যুৎ বা গ্যাস না থাকলেও খাওয়া সম্ভব। টিনজাত মাংস, ফল বা সবজির মতো প্রস্তুত খাবারের উদাহরণ দিয়েছে সরকার। পোষা প্রাণী থাকলে তাদের খাবারের ব্যবস্থাও জরুরি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার কথ…

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর