ইতালির আশ্রয়কেন্দ্রে ভাঙচুর-হামলার অভিযোগ, ২৪ বছরের বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠাল পুলিশ
ইতালির আশ্রয়কেন্দ্রে ভাঙচুর, হামলা ও হুমকির অভিযোগ; পুলিশি পাহারায় ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে মিলান বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হলো।
ইতালির আশ্রয়কেন্দ্রে ভাঙচুর-হামলার অভিযোগ, ২৪ বছরের বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠাল পুলিশ
ইতালির তুসকানি অঞ্চলের লুকা প্রদেশে একটি অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বারবার সহিংস আচরণ, ভাঙচুর, মারধর ও হুমকির অভিযোগের পর ২৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইতালির পুলিশ। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কয়েক মাস ধরে ইতালিতে অনিয়মিত অবস্থায় ছিলেন এবং কাপান্নোরি পৌরসভার একটি অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাটি সামনে আসে লুকা পুলিশের অভিবাসন দপ্তরের নেওয়া পদক্ষেপের পর। পুলিশের বরাত দিয়ে ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নোইটিভি জানিয়েছে, ওই বাংলাদেশি যুবক আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে একাধিকবার সহিংস আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রের আসবাবপত্রের পাশাপাশি কর্মীদের ব্যবহৃত গাড়িতেও তিনি ক্ষতি করেছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
অভিযোগ শুধু সম্পদ নষ্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য অভিবাসী এবং সেখানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদেরও হুমকি ও মারধর করেছিলেন ওই যুবক। একাধিক ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তাঁর অবস্থান ও ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক যাচাই শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে লুকা পুলিশের অভিবাসন দপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে ইতালি থেকে বহিষ্কারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ইতালিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য করা নিজের আবেদন ওই বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর লুকার প্রিফেক্ট তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করেন এবং লুকার কোয়েস্তোর ইতালির ভূখণ্ড থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি লুকার ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ বা শান্তি রক্ষাকারী বিচারক-এর সামনে উপস্থাপন করা হলে আদালত বহিষ্কারসংক্রান্ত পদক্ষেপটি অনুমোদন করেন।
সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, লুকা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের পাহারায় ২৪ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশিকে মিলানের মালপেনসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে একটি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে তাঁকে সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ইল তিররেনো জানিয়েছে, ওই যুবক কয়েক মাস ধরে ইতালিতে অবস্থান করছিলেন। আশ্রয়কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অন্য বাসিন্দা ও কর্মীদের হুমকি ও মারধর এবং গাড়ি ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
লুকা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বহিষ্কার তাদের প্রদেশজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা এবং আইন মেনে সামাজিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার কার্যক্রমের অংশ।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এমন কোনো সাধারণ ঘোষণা পাওয়া যায়নি যে আশ্রয়কেন্দ্রে অপরাধে জড়ালেই প্রত্যেক অভিবাসীর আশ্রয়ের আবেদন ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল’ করে তাৎক্ষণিক দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বরং এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই ব্যক্তি নিজেই আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন প্রত্যাহার করেন; এরপর তাঁর অনিয়মিত অবস্থান, প্রিফেক্টের বহিষ্কারাদেশ, কোয়েস্তোরের নির্দেশ এবং বিচারিক অনুমোদনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শেষে প্রত্যাবাসন কার্যকর হয়।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচারের ক্ষেত্রে ‘সহিংসতার কারণে আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে সঙ্গে সঙ্গে ডিপোর্ট’ বলার পরিবর্তে বলা অধিক নির্ভুল হবে—সহিংসতা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করা ২৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ১৬ সেপ্টেম্বর ঘটলেও ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর বিস্তারিত প্রকাশিত হয়। নোইটিভি ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ইল তিররেনো ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।