নিখোঁজের পর পাহাড়ি জঙ্গলে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ, আটক তিনজন

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে আর ফেরেনি ১৩ বছরের অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর পাহাড়ি জঙ্গল থেকে মিলল তার মরদেহ; ঘটনায় আটক তিনজন।

নিখোঁজের পর পাহাড়ি জঙ্গলে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ, আটক তিনজন

নিখোঁজের পর পাহাড়ি জঙ্গলে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ, আটক তিনজন


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার রাতে পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একজনকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং অন্যদের পুলিশ আটক করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ওই এলাকায় দুপুর প্রায় একটার দিকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিল মায়ের আইফোন। এরপর আর সে বাসায় ফিরে আসেনি। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তার ব্যবহৃত ফোনের অবস্থান কুমিল্লার গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা গেলেও পরে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মাঠে নামে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামের এক তরুণকে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর আগে এসআরবি-১১-এর কুমিল্লা ইউনিটের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের কাউকেই হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে বলা হয়নি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো তদন্তের একটি সম্ভাব্য কারণ মাত্র; হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কারা সরাসরি জড়িত, তা তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত হবে। মরদেহ উদ্ধারের সময় অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে এবং একাধিক দল কাজ করছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ বা আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর