চার্লি কার্কের মৃত্যুতে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

চার্লি কার্কের পরিবার নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগে ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছে; সামনে সরকারি দায়মুক্তি আইনের বড় বাধা।

চার্লি কার্কের মৃত্যুতে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই

চার্লি কার্কের মৃত্যুতে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই


চার্লি কার্কের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ মামলা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিবারের আইনজীবীদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কার্কের বক্তব্যের আগে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না। তবে পরিবারের এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ও অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবির নোটিশটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার আগে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ। ওই নোটিশে ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ, তৎকালীন পুলিশ প্রধান জেফরি লং, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট অ্যাস্ট্রিড টুমিনেজ এবং ইউটাহ অঙ্গরাজ্যকে সম্ভাব্য বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, কার্কের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বেশ কিছু ঘাটতি ছিল এবং এসব ঘাটতির কারণে তার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

নোটিশে পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, অনুষ্ঠানের আগে কার্কের নিরাপত্তা দল আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ প্রধান জেফরি লং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জবাবে কার্কের দলের একজন সদস্যকে বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি বিষয়টি দেখবেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। পরিবারের আইনজীবীরা এই বার্তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস হিসেবে দেখছেন।

পরিবারের অভিযোগ, পরে যে ভবনের ছাদ থেকে কার্ককে গুলি করা হয়, সেটি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপদ করা হয়নি। প্রায় তিন হাজার মানুষের উপস্থিতির ওই অনুষ্ঠানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়নি বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য চাওয়া হলেও সেই অনুরোধ অনুমোদন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্যাগ তল্লাশি, ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র এবং ছাদ পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহর ওরেম শহরের ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্ক গুলিবিদ্ধ হন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, টাইলার রবিনসন কাছের একটি ভবনের ছাদ থেকে কার্ককে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তার বিরুদ্ধে গুরুতর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হতে পারে। তবে রবিনসন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কার্কের মৃত্যুকে ঘিরে চলমান ফৌজদারি মামলা এবং পরিবারের সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ মামলা দুটি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া।

এদিকে পরিবারের সম্ভাব্য মামলার সামনে বড় একটি আইনি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউটাহর সরকারি দায়মুক্তি আইন। এই আইনের আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু ধরনের মামলা থেকে আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন। ফলে পরিবার নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুললেও, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে কি না, তা আদালতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য মামলায় পরিবারকে শুধু নিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগ তুললেই হবে না। তাদের দেখাতে হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট কী ধরনের আইনগত দায়িত্ব ছিল, সেই দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হয়নি এবং কথিত ব্যর্থতার সঙ্গে কার্কের মৃত্যুর আইনগত সম্পর্ক কতটা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি দায়মুক্তি আইনের কোনো বিধান এই দাবিকে বাধাগ্রস্ত করে কি না, সেটিও আদালতকে বিবেচনা করতে হতে পারে।

পরিবারের আইনজীবীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের প্রধানের কথিত আশ্বাসের বার্তাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাদের যুক্তি হতে পারে, ওই বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্কের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদি আদালত এই যোগাযোগকে আইনগত দায়িত্ব গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে তা পরিবারের মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে ওই বার্তার প্রকৃত আইনি অর্থ কী হবে, তা শেষ পর্যন্ত আদালতের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে।

ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবির নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি জানে এবং প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি মোকাবিলা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বক্তব্যে পরিবারের অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি। ফলে নিরাপত্তা পরিকল্পনা কী ছিল, কর্মকর্তারা আগে কী ধরনের সতর্কতা পেয়েছিলেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তার অনুরোধ করা হয়েছিল কি না এবং আশপাশের ভবনের ছাদ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কার ছিল—এসব প্রশ্ন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্ভাব্য মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে কার্কের মৃত্যুর সঙ্গে কথিত নিরাপত্তা ব্যর্থতার সরাসরি আইনগত সম্পর্ক। পরিবারকে দেখাতে হতে পারে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথিত ঘাটতি এবং হামলার মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক ছিল, যার ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ সরকারি দায়মুক্তি, আইনগত দায়িত্বের সীমা এবং হামলাকারীর স্বাধীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মতো বিষয় সামনে আনতে পারে।

বর্তমানে পরিবারের দাবির ভিত্তিতে কোনো আদালত ইউটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউটাহ অঙ্গরাজ্যকে কার্কের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেনি। একইভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবারের অভিযোগ করা ঘাটতিগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই পরিবারের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য এবং আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যাকে আলাদা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন পরবর্তী ধাপে দাবির নোটিশের জবাব, সম্ভাব্য আনুষ্ঠানিক মামলা, সরকারি দায়মুক্তি আইন নিয়ে প্রাথমিক আইনি লড়াই এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি ও যোগাযোগ পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে নির্ধারিত হতে পারে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি আইনগতভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর