জাতিসংঘের আস্থা ফেরানো ও এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় খলিলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘের আস্থা ফেরানো ও এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় খলিলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

জাতিসংঘের আস্থা ফেরানো ও এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় খলিলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা


জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে সংস্থাটির সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে কথা বলেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের নতুন অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংস্থাটির প্রতি আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য ফলপ্রসূ একটি জাতিসংঘ’। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে জাতিসংঘের প্রতি মানুষের ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, শুধু আস্থার কথা বললেই হবে না; সিদ্ধান্ত, প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব ফলাফলের মাধ্যমে সেই আস্থা অর্জন করতে হবে।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে। সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট রয়েছে। অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করার প্রশ্ন নয়; বরং প্রযুক্তিকে কীভাবে দায়িত্বশীল, ন্যায্য ও নিরাপদভাবে পরিচালনা করা যায়, সেটিই বড় বিষয়। এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি এর অপব্যবহার, বৈষম্য এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর নির্বাচনী বক্তব্যেও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ও ন্যায্যভাবে’ শাসন বা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গেও খলিলুর রহমানের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়টিও তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে এসেছে।

জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের জন্য আরও কার্যকর করে তুলতে সংস্কার ও জবাবদিহির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে খলিলুর রহমান বলেন, সংস্কারের পাশাপাশি বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের মানুষের প্রয়োজনের কার্যকর জবাব দিতে পারে। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে তাদের নির্ধারিত আর্থিক অবদান সময়মতো দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

খলিলুর রহমানের মতে, জাতিসংঘকে শুধু রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন হিসেবে দেখলে চলবে না; নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিল্প ও প্রযুক্তি খাত, উদ্ভাবন এবং শিক্ষাঙ্গনের কণ্ঠস্বরকেও আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। তাঁর সভাপতিত্বে জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও উন্মুক্ত, কার্যকর ও মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, প্রযুক্তির পরিবর্তন, মানবিক সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর