এড শিরানের কনসার্ট বিতর্ক ও টেলর সুইফটের নীরবতা ঘিরে উত্তপ্ত সংগীত বিশ্ব

ম্যাকলেমারের অপসারণ, সহ-শিল্পীদের ট্যুর বর্জন ও টেলর সুইফটের নিরবতা নিয়ে তৈরি বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে।

এড শিরানের কনসার্ট বিতর্ক ও টেলর সুইফটের নীরবতা ঘিরে উত্তপ্ত সংগীত বিশ্ব

এড শিরানের কনসার্ট বিতর্ক ও টেলর সুইফটের নীরবতা ঘিরে উত্তপ্ত সংগীত বিশ্ব


বিশ্ব সংগীত জগতে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে প্রখ্যাত গায়ক এড শিরানের চলমান আমেরিকার সফর এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কারণে র‍্যাপার ম্যাকলেমারকে এড শিরানের ট্যুর থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূচনা হয়। পরবর্তীতে একে একে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় সহ-শিল্পী ম্যাকলেমারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। এর ফলে পুরো সংগীত সফরটি এক অভূতপূর্ব জটিলতার মুখে পড়ে।
এই পুরো ঘটনার মধ্যে সংগীত অনুরাগীদের চোখ এখন আরেক বৈশ্বিক সুপারস্টার টেলর সুইফটের দিকে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এড শিরান ও টেলর সুইফটের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। অথচ শিরানের এই সফর কেন্দ্রিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন পর্যন্ত টেলর সুইফট পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তার এই দীর্ঘ নীরবতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ভক্তদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমার একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে গাজায় চলমান পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং মুক্ত ফিলিস্তিনের দাবিতে স্লোগান তোলেন। তার এই অবস্থান নেওয়ার পর কনসার্ট আয়োজকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর জেরে দ্রুতই তাকে এড শিরানের বহুল আলোচিত সফরের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সংগীত অঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
শিল্পীকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এড শিরান নিজে। তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, ম্যাকলেমারকে সফর থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত ছিল না। শিরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কনসার্টের মূল আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবং যে স্থানগুলোতে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ছিল, তাদের পক্ষ থেকেই এই বড় ধরনের চাপ আসে। আয়োজক পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ম্যাকলেমার যদি সংগীত পরিবেশনা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তবে নিরাপত্তার দোহাই ও ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি নির্ধারিত অনুষ্ঠান একতরফাভাবে বাতিল করা হতে পারে। শিরান জানান, তিনি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজক ও বিভিন্ন পক্ষের সাথে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো সিদ্ধান্তটি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই আসে।
শিরানের এই ব্যাখ্যার পরও বিতর্কের আগুন নেভেনি। ম্যাকলেমারকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তার প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে সফরের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহ-শিল্পী নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। এদের মধ্যে লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো, বিওগা এবং ফিনিয়াসের মতো নামকরা ব্যান্ড ও শিল্পীরা রয়েছেন। একের পর এক শিল্পীর এভাবে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে এবং বিশ্ব গণমাধ্যমের নজর কেড়ে নেয়।


ঠিক এই জটিল পরিস্থিতিতেই সবার দৃষ্টি গিয়ে পড়ে টেলর সুইফটের ওপর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিরান ও সুইফটের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধুই পেশাগত নয়, বরং তা এক গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। টেলর সুইফটের বিখ্যাত রেড ট্যুরে প্রারম্ভিক শিল্পী হিসেবে পারফর্ম করে এড শিরান আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে এই দুই তারকা একাধিক জনপ্রিয় গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এবং দেশ-বিদেশের বহু ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে একসঙ্গে গান পরিবেশন করেছেন। বন্ধুত্বের এই দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, শিরানের বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্ক কিংবা সফরের রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে টেলর সুইফট এখনো কোনো ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন। বিদেশি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে এড শিরান তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন যে, তিনি তার কনসার্টের মঞ্চকে কোনো ধরণের রাজনৈতিক মতবিরোধের জায়গা হিসেবে ব্যবহার হতে দিতে চান না। তার মূল লক্ষ্য হলো দর্শকদের জন্য কেবল একটি সুন্দর ও বিশুদ্ধ সুরের পরিবেশ বজায় রাখা। তবে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন র‍্যাপার ম্যাকলেমার। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন ও মানবাধিকারের পক্ষে তিনি তার স্পষ্ট অবস্থান বজায় রাখবেন এবং সংগীত থেকে বাদ পড়ার ভয়ে পিছপা হবেন না।


সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি কেবল একটি কনসার্টের তালিকা পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে ঘটনাটি শিল্পী সমাজের মতপ্রকাশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, কনসার্ট আয়োজকদের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বিতর্কিত সময়ে তারকাদের নীরবতা নিয়ে এক বিশাল বৈশ্বিক আলোচনায় রূপ নিয়েছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর