ইহুদি উগ্রপন্থীরা সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতা

ইহুদি উগ্রপন্থীদের সহিংসতা ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি, সতর্ক করল নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান

ইহুদি উগ্রপন্থীরা সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতা

ইহুদি উগ্রপন্থীরা সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতা


অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদি উগ্রপন্থী ও কিছু বসতি স্থাপনকারীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা অধ্যয়ন প্রতিষ্ঠান। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশেষ কৌশলগত সতর্কবার্তায় প্রতিষ্ঠানটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 


প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, একসময় বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে দেখা ইহুদি জাতীয়তাবাদী সহিংসতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ইসরায়েল রাষ্ট্র ও এর গণতান্ত্রিক চরিত্রের জন্য স্বতন্ত্র কৌশলগত হুমকিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রের শাসন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 


প্রতিবেদনটিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইহুদি জাতীয়তাবাদী অপরাধের ৬৬০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে এ সংখ্যা ছিল ৪০৫। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। আবার ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। 


এসব সহিংসতায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্যও উদ্ধৃত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের হিসাবে, হতাহত কিংবা সম্পদের ক্ষতি হয়েছে—এমন বসতি স্থাপনকারীদের হামলার গড় সংখ্যা দিনে প্রায় ছয়টিতে পৌঁছেছে।


উদ্বেগের আরেকটি কারণ হচ্ছে, সহিংসতা এখন শুধু ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধেও কিছু বসতি স্থাপনকারীর আক্রমণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ৪৫টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৩। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 


এসব ঘটনার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ, শারীরিক সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ, সামরিক যানের চাকা নষ্ট করা এবং নিরাপত্তা অভিযান বাধাগ্রস্ত করার মতো ঘটনাও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীকে অন্য নিরাপত্তা কার্যক্রম থেকে সদস্য সরিয়ে আনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিকল্পিত অভিযানও বাতিল করতে হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।


ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের কর্মকর্তাদের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি সেনাদলের দৈনিক নথিভুক্ত ঘটনার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ইহুদি জাতীয়তাবাদী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এর ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।


আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদর্শিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের অভিযোগে খোলা তদন্তের প্রায় ৯৪ শতাংশ অভিযোগপত্র ছাড়াই বন্ধ হয়ে গেছে। সব মামলার প্রায় তিন শতাংশ শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 


ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা অধ্যয়ন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন হলো, পর্যাপ্ত আইন প্রয়োগের অভাব, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের ঘাটতি এবং বিচার ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থার দুর্বলতা এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, সহিংস গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাষ্ট্রের বৈধভাবে শক্তি প্রয়োগের একক কর্তৃত্বও দুর্বল হতে পারে। 


পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও দুর্বল করে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা কমে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আরও প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ।


প্রতিবেদনটি আরও বলছে, পশ্চিম তীরের সহিংসতা ইসরায়েলের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জর্ডান ও মিসরের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা জটিল হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেশি পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর