আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে পুতুল, শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নেওয়ার আলোচনা চলছে। সেপ্টেম্বরেই মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির কয়েকজন নেতা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে পুতুল, শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে পুতুল, শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে বলা হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ থেকে আরও দুজন নেতাকে সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। 

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিল অথবা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলের সভাপতি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দিতে পারেন। ফলে পুতুলকে সভাপতিমণ্ডলীতে নেওয়া হলে দলীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা। 

দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি বৈঠক ডাকা হয়। শুরুতে ভারতের নয়াদিল্লিতে নেতাদের সরাসরি উপস্থিতিতে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি ভার্চুয়ালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সব কেন্দ্রীয় নেতা ভারতে না থাকা এবং সেখানে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওই বৈঠকেই পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। দলীয় নেতাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে দিলে তিনি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্য ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

দলের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সংবাদমাধ্যমকে কয়েকজন নেতার দিল্লিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার অবস্থানের কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। 

পুতুলকে সভাপতিমণ্ডলীতে নেওয়ার আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ এবং নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পুতুলকে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত করার বিষয়টি দলের ভেতরে আগেও আলোচিত হয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি সাম্প্রতিক সাংগঠনিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব বক্তব্য দলীয় নেতাদের দাবি; পুতুল নিজে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। 

সায়মা ওয়াজেদ দীর্ঘদিন জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম নিয়ে কাজ করার কারণে পরিচিত। রাজনীতিতে তাঁর সরাসরি সাংগঠনিক ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। ফলে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি তাঁর আনুষ্ঠানিক দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত হওয়ার ঘটনা হবে।

পুতুল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন’—এভাবে নিশ্চিত করে বলা এখনই যথাযথ নয়। বরং তাঁর মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও আলোচনা চলছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে—এটাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর