দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের জোরালো সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের জোরালো সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের জোরালো সহায়তা চাইল বাংলাদেশ


দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে আবার কার্যকর ও গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভুটানের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  


বৈঠকে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। ছবিটিতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এই আন্তরিক পরিবেশে উভয় দেশের পতাকা শোভা পাচ্ছে এবং দুই দেশের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।  
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সার্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মঞ্চ। দীর্ঘ সময় ধরে এই আঞ্চলিক জোটের মূল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না। ফলে বাণিজ্য, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, অঞ্চলটির সকল দেশের যৌথ সমৃদ্ধির জন্য জোটটিকে আবার সচল করা অপরিহার্য।


ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ছিল একটি চমৎকার কূটনৈতিক সুযোগ। বৈঠককালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয় যে, একটি কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা গড়ে তুলতে হলে ভুটানের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবিদ্যুৎ, কৃষি এবং পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংস্থা পুনরুজ্জীবিত হলে এই অঞ্চলের সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আলোচনায় ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ ও ভুটান উভয় রাষ্ট্রই জলবায়ু পরিবর্তনের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষা এবং নদী ব্যবস্থাপনায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।


ভুটান ছিল প্রথম দেশগুলোর অন্যতম, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করেছিল। এই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্ককে সামনে রেখে নতুন দিনের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো যৌথভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়। আলোচনার সময় ভুটানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশের আঞ্চলিক ঐক্যের এই ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে, সংক্ষিপ্ত হলেও এই যাত্রাবিরতি সম্মেলন দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য, যাতায়াত এবং যৌথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আগামী দিনে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। 


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর