ইউরোপের সঙ্গে নতুন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যাচ্ছে কানাডা, বাড়ছে সহযোগিতা

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় কানাডা; গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিতে বাড়ছে সহযোগিতা, সামনে আসছে নতুন অংশীদারত্বের সম্ভাবনা।

ইউরোপের সঙ্গে নতুন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যাচ্ছে কানাডা, বাড়ছে সহযোগিতা

ইউরোপের সঙ্গে নতুন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যাচ্ছে কানাডা, বাড়ছে সহযোগিতা


কানাডা দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বহুত্ববাদ, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ইউরোপের সঙ্গে দেশটির অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে কার্নি কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন ধরনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করা কানাডার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ইউরোপকে কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কার্নির বক্তব্যে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ও নতুন প্রযুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কানাডা ও ইউরোপের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গে ইউরোপের বাজার, শিল্প ও গবেষণা সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেন।

কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার একটি নতুন প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই ধারণাকে স্বাগত জানালেও এ ধরনের সহযোগিতার কাঠামো কী হবে, তা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

কানাডার ইউরোপমুখী এই উদ্যোগকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফলে কানাডা ও ইউরোপের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন অংশীদারত্ব শুধু অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই নয়, উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কানাডা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার চেষ্টা করছে। তবে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবে কী রূপ নেবে, কানাডা কী ধরনের সুবিধা পাবে এবং ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলো এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে—এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর