জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় নামছে হাজারো পুলিশ

বিশ্বনেতাদের জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে প্রতিদিন একাধিক বিক্ষোভের প্রস্তুতি; নিরাপত্তায় হাজারো পুলিশ, বন্ধ থাকবে ম্যানহাটনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় নামছে হাজারো পুলিশ

জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় নামছে হাজারো পুলিশ


বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্ক শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিক বিক্ষোভ হতে পারে বলে ধারণা করছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন একাধিক বিক্ষোভ হওয়ার প্রত্যাশা করছে পুলিশ। শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও বিক্ষোভের অধিকার রক্ষায় পুলিশ সহযোগিতা করবে। তবে সহিংসতা কিংবা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার আগেই ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে আসা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অধিবেশনে অংশ নেবেন।

এত বিপুলসংখ্যক বিশ্বনেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতির কারণে নিউইয়র্ক পুলিশের জন্য এটি বছরের অন্যতম জটিল নিরাপত্তা কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। পুরো সপ্তাহে শত শত গাড়িবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বনেতারা জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে হোটেল, বৈঠক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাতায়াত করবেন। ফলে ম্যানহাটনের বিভিন্ন সড়কে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হবে।

নিরাপত্তার জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশে হাজার হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাঁদের সহযোগিতা করবে ভারী অস্ত্রধারী বিশেষ দল, আকাশপথের নিরাপত্তা দল, নৌপথের নিরাপত্তা ইউনিট, প্রশিক্ষিত কুকুরের দল, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, ড্রোন পর্যবেক্ষণ দল এবং সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ সদস্যরা।

নিউইয়র্ক পুলিশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নিরাপত্তা সংস্থা, পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নেবে। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরেই এসব সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহর বা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে যানজট ও সড়ক বন্ধ। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে। প্রথম অ্যাভিনিউয়ের ৪১তম থেকে ৪৮তম সড়ক পর্যন্ত অংশ বন্ধ থাকবে। ৪৪তম থেকে ৪৭তম সড়কের প্রথম ও দ্বিতীয় অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী অংশও প্রতিদিন বন্ধ থাকবে।

অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন রাত প্রায় নয়টা পর্যন্ত ৪২তম সড়কের প্রথম ও দ্বিতীয় অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী অংশ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সড়কের ৪২তম সড়কের নির্গমন পথও বন্ধ রাখা হবে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের গাড়িবহর চলাচলের সময় ম্যানহাটনের আরও অনেক সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে।

নিউইয়র্ক শহরের পরিবহন বিভাগ ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিনগুলোকে তীব্র যানজটের সতর্কতার দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সময় মধ্য ম্যানহাটনে বছরের সবচেয়ে ধীরগতির যান চলাচল দেখা যায় এবং গড় গতি ঘণ্টায় চার মাইলের নিচে নেমে যেতে পারে।

নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে যে ১৮ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ম্যানহাটনের বিভিন্ন অংশে উল্লেখযোগ্য যানজট, সড়ক বন্ধ এবং জরুরি বিভাগের সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা যাবে। এ সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাস পরিষেবাতেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক বন্ধ এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের গাড়িবহরের কারণে নির্ধারিত পথে বাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই যাত্রীদের পাতালরেল ও অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহারের পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আকাশপথেও বিশেষ বিধিনিষেধ থাকবে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দুই নটিক্যাল মাইল এলাকার মধ্যে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। অনুমোদন ছাড়া ড্রোন ওড়ানো যাবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েন থাকবে।

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন হয়ে উঠবে বিশ্বের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। একদিকে প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিদিনের বিক্ষোভ, শত শত সরকারি গাড়িবহর এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা— সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ তাই ম্যানহাটনে যাতায়াতকারীদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর