বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন দৃষ্টান্ত
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র, স্থানীয় উন্নয়ন ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নতুন নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন দৃষ্টান্ত
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের ভোটে এলিজা রহমান এ দায়িত্ব পান। একই সভায় ভিন্স ফেরেরি মেয়র নির্বাচিত হন। ক্যামডেন কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইটেও এলিজা রহমানকে নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ক্যামডেন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ডেপুটি মেয়রের মেয়াদ সেপ্টেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নর্থ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পেলেন।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো এলিজা রহমানকে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী ডেপুটি মেয়র হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই প্রতিবেদনে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাসুদ খলিল।
ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ডে এলিজা রহমানের সঙ্গে ভিন্স ফেরেরি ও ড. আবহা সুরিও কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামডেন স্থানীয় সরকার এলাকায় মোট তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে—নর্থ, সেন্ট্রাল ও সাউথ—এবং প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনজন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় অবকাঠামো, পরিবহন, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দ্রুত জনসংখ্যা বাড়তে থাকা ক্যামডেন এলাকায় আবাসন, সড়ক, পরিবহন ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার ওপর চাপও বাড়ছে। কাউন্সিলের নিজস্ব পরিকল্পনা নথিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার চাহিদা সামঞ্জস্য রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নিয়েও এলিজা রহমান কাউন্সিলের আলোচনায় বিষয়টি সামনে আনেন। দ্রুত বিকাশমান এলাকার বাসিন্দাদের যোগাযোগ সুবিধা, জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ এবং স্থানীয় ব্যবসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্কের গুরুত্ব নিয়ে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় পরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থার বিষয়েও তাঁর কাজের তথ্য পাওয়া যায়। কাউন্সিলের বিভিন্ন কমিটি ও স্থানীয় পরিবহনসংক্রান্ত কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় সড়ক, যান চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
এলিজা রহমানের দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বহুসাংস্কৃতিক সমাজ। ক্যামডেনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল এলাকায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সামাজিক সংহতি তৈরির বিষয়টি স্থানীয় সরকারের কাজের অংশ। কাউন্সিলের বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ক্যামডেন কাউন্সিলের বিভিন্ন রেফারেন্স গ্রুপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য accessibility, inclusion ও সমঅধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে প্রবীণ নাগরিকদের প্রয়োজন এবং তাঁদের জন্য স্থানীয় পরিষেবার বিষয়েও কাউন্সিলের কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কার্যক্রমেও এলিজা রহমানের অংশগ্রহণ রয়েছে। ক্যামডেন কাউন্সিলের বিভিন্ন ইভেন্ট ও কমিউনিটি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পারিবারিক শিকড় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলিজা রহমানের নির্বাচনের পর ক্যামডেন কাউন্সিলের নতুন মেয়র ভিন্স ফেরেরি তাঁকে অভিনন্দন জানান। কাউন্সিলের প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এলিজা রহমানের সঙ্গে কাউন্সিলর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাউন্সিলের কর্মীদের নিয়ে এলাকার জন্য কাজ করার প্রত্যাশা জানান। এলিজা রহমানও নতুন দায়িত্বে স্থানীয় জনগণের সেবা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ক্যামডেন বর্তমানে দ্রুত সম্প্রসারিত স্থানীয় সরকার এলাকাগুলোর একটি। নতুন আবাসিক এলাকা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অবকাঠামো, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবহন এবং নাগরিক সেবার চাহিদাও বাড়ছে। কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এলাকার সক্রিয় পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে ২.১৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অনুদানও নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালে নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে স্থানীয় সরকারে যাত্রা শুরু করে ২০২৬ সালে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া এলিজা রহমানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের নতুন অধ্যায়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের দৃশ্যমানতাও এতে আরও বাড়ল।