কুইন্সে আইসিই অভিযান, কাজে আসা বন্ধ করেছেন বহু অভিবাসী দিনমজুর
কুইন্সে শ্রমিকদের সমাবেশস্থলে আইসিই অভিযান, আটকের পর কাজ হারানোর শঙ্কায় অনেক অভিবাসী দিনমজুর এখন সেখানে যাচ্ছেন না।
কুইন্সে আইসিই অভিযান, কাজে আসা বন্ধ করেছেন বহু অভিবাসী দিনমজুর
নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় অভিবাসী দিনমজুরদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডকুমেন্টেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে জেনারেল হার্ট প্লেগ্রাউন্ড এলাকায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা অভিযান চালান এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী প্রায় আটজন শ্রমিককে আটক করা হয়।
ওই এলাকায় সাধারণত প্রায় একশ অভিবাসী শ্রমিক প্রতিদিন কাজের অপেক্ষায় জড়ো হন। নির্মাণ, ছাদ মেরামত, ধ্বংসকাজ ও রং করার মতো বিভিন্ন কাজে তাদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু অভিযানের পর অনেক শ্রমিক সেখানে আসা কমিয়ে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই ঘটনাটি নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই সামনে এসেছে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর আটক প্রায় ৫১ হাজারে পৌঁছেছিল, যা টানা তৃতীয় মাসের রেকর্ড। তবে আটক বাড়লেও বহিষ্কারের সংখ্যা একই অনুপাতে বাড়েনি। এর পেছনে আইনি প্রক্রিয়া, বহিষ্কার আদেশ না থাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার বিষয় রয়েছে।
কুইন্সের ঘটনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দিনমজুরদের অনেকেই দৈনিক কাজের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন অভিযানের আশঙ্কায় কোনো শ্রমিক কাজের নির্দিষ্ট জায়গায় না গেলে তার পরিবারের দৈনন্দিন আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধও চলছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে অনেক বাংলাদেশি নির্মাণ, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, পরিষেবা ও অন্যান্য খাতে কাজ করেন। তাই অভিবাসন অভিযান কোথায় হচ্ছে, স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী এবং কার কী ধরনের আইনি সুরক্ষা রয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা জরুরি।
তবে কুইন্সের এই নির্দিষ্ট অভিযানে আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ণ তথ্য নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সবাইকে অবৈধ অভিবাসী বা অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যভিত্তিক হবে না।