ক্যালিফোর্নিয়া কানসাস ও লুইজিয়ানায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ছয়জন গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়া কানসাসে ও লুইজিয়ানায় নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা, ভোটার পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ নতুন করে।

ক্যালিফোর্নিয়া কানসাস ও লুইজিয়ানায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ছয়জন গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়া কানসাস ও লুইজিয়ানায় ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ছয়জন গ্রেপ্তার


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো পৃথক হলেও তিন অঙ্গরাজ্যেই ভোটার নিবন্ধন, ভোট প্রদান কিংবা নির্বাচনী আবেদনে ভুয়া তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে।


ক্যালিফোর্নিয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভোটারদের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যালট উদ্যোগের আবেদনে ভুয়া স্বাক্ষর সংগ্রহের। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিবন্ধিত ভোটারদের তথ্য ব্যবহার করে তাদের পরিচয়ে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। এ কাজে অর্থের বিনিময়ে লোকজনকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কয়েক হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনও জড়িত ছিল। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


কানসাসে আলাদা একটি ঘটনায় পেরুর নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা এক নারীর বিরুদ্ধে নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করে ভোটার নিবন্ধন এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেন। তার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অযোগ্য হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


লুইজিয়ানায় আরও দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন নারী অন্য এক ব্যক্তির জন্য ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেন এবং সেখানে তাকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক এবং মার্কিন নাগরিক নন বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ।


মামলার নথি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ফেডারেল নির্বাচন এবং স্থানীয় মেয়র নির্বাচনে ভোট দেন। তার বিরুদ্ধে অযোগ্য বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, যিনি ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার নিবন্ধনে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।


মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ কাজ করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ভোটার নিবন্ধন ও ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব এবং পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


তবে এসব ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগপত্রে থাকা তথ্য এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় কোনো আসামি আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এসব ঘটনাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ভোট জালিয়াতি হিসেবে উপস্থাপন না করে ফেডারেল অভিযোগ ও তদন্ত হিসেবে উল্লেখ করাই সঠিক।

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, কানসাস ও লুইজিয়ানার ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোনো একক মামলা নয়। বরং পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে ছয়জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।


তথ্যের উৎস হিসেবে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল প্রসিকিউটরদের প্রকাশিত নথি ব্যবহার করা হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর