দক্ষিণ পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন ও ইকুয়েডর যৌথ অভিযানে মাদক কারবারি চক্রের নৌযান ধ্বংস

ইকুয়েডর ভিত্তিক মাদক চক্রের ভাসমান জ্বালানি স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত নৌযান সাগরে ডুবিয়ে দিল মার্কিন যৌথ সামরিক বাহিনী।

দক্ষিণ পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন ও ইকুয়েডর যৌথ অভিযানে মাদক কারবারি চক্রের নৌযান ধ্বংস

দক্ষিণ পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন ও ইকুয়েডর যৌথ অভিযানে মাদক কারবারি চক্রের নৌযান ধ্বংস


দক্ষিণ পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক চোরাচালান বিরোধী এক বিশাল যৌথ অভিযানে ইকুয়েডর ভিত্তিক ভয়ংকর অপরাধী সংগঠন লস চোনেরোসের ব্যবহৃত একটি ভাসমান জ্বালানি স্টেশন নৌযান বাজেয়াপ্ত করার পর তা সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস এল ডোনোভানের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই নিখুঁত অভিযানে কোন হতাহতের ঘটনা ছাড়াই নৌযানের নাবিক ও কর্মীদের উদ্ধার করে ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। 


 
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাজেয়াপ্ত করা এই বিশেষ নৌযানটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করে মাদক পাচারকারী দ্রুতগামী স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযানকে গোপনে জ্বালানি, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে আসছিল। গোপন এই সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করার ফলে লস চোনেরোস মাদক চক্রের সামুদ্রিক রসদ ও যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর এক মারাত্মক আঘাত হেনেছে যৌথ বাহিনী।


মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, অভিযানে নৌযানে থাকা নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরেই মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও সামরিক কৌশল প্রয়োগ করে সেটিকে সাগরের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং আমেরিকা মহাদেশের মাদক বিরোধী যৌথ জোটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই মহাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত সমুদ্রপথের সকল অবৈধ যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাদের এই কঠোর ও ধারাবাহিক চাপ অব্যাহত থাকবে।  
অভিযান সম্পর্কে মন্তব্য করে জেনারেল ফ্রান্সিস এল ডোনোভান বলেন, এটি আমাদের যৌথ সক্ষমতার এক অনন্য উদাহরণ, যার মাধ্যমে চরম সহিংস মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের জটিল ও গোপন নেটওয়ার্ক ধূলিসাৎ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আমাদের মিত্র দেশ ইকুয়েডরের সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সুদৃঢ় সমন্বয় রেখে কাজ করার ফলেই অপরাধী চক্রটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক কেন্দ্রটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে মাদকের চালান পৌঁছানো রোধ করতে আমরা অঞ্চল জুড়ে আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত সামরিক নজরদারি বজায় রাখব।  


ইকুয়েডরের ভয়ংকর অপরাধী সংগঠন লস চোনেরোস গত কয়েক বছর ধরে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ জনগণের জন্য এক প্রধান হুমকি হয়ে উঠেছে। কারা অভ্যন্তর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এই চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যাপক মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, অপহরণ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিপূর্বে এই সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও ভয়ংকর মাদক পাচারকারী সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পদ ও সমুদ্রগামী বাহনের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে।  


সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সমুদ্রপথে টহল ও আকাশপথে সামরিক নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্রপথে চলাচলের সময় যেকোনো সন্দেহভাজন গতিবিধি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যাতে কোনো অবৈধ বাহন নজর এড়িয়ে যেতে না পারে। ইকুয়েডরীয় বন্দর নগরী থেকে পরিচালিত সমুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখছে যৌথ বাহিনী, যাতে এই ধরনের ভাসমান রিফুয়েলিং ব্যবস্থার অপব্যবহার চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হয়।  


ইকুয়েডরের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সামরিক দপ্তরের এই ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার সমুদ্রসীমায় যেকোনো অপরাধমূলক তৎপরতা দমন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক এই সামরিক জোট। অপরাধী চক্রগুলোর মূল চালিকাশক্তি ও অর্থনৈতিক রসদের উৎসগুলো একে একে অচল করে দেওয়াই এখন এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনগুলোতেও মাদক চোরাচালানের প্রধান পথগুলোতে টহল আরো জোরদার করার এবং সন্দেহভাজন সব বাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর