ডিভি-২০২৬ লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারেননি, জানাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
ডিভি-২০২৬ লটারিতে বাংলাদেশিদের আবেদন করার সুযোগ ছিল না, অযোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ থাকায় নতুন করে উঠেছে বিষয়টি।
ডিভি-২০২৬ লটারিতে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারেননি, জানাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারির ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন করার সুযোগ ছিল না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ মোট ১৯টি দেশের নাগরিককে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগের পাঁচ বছরে যেসব দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেছেন, সেসব দেশের নাগরিকরা সাধারণ নিয়মে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন না। এই নিয়মের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে।
ডিভি-২০২৬-এর অযোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, কানাডা, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাংলাদেশিদের জন্য নতুন করে ডিভি লটারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’—এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ডিভি-২০২৬-এর শুরু থেকেই অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।
ডিভি-২০২৬-এর আবেদন গ্রহণের সময়ও বাংলাদেশ তালিকায় ছিল না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয় ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর এবং শেষ হয় একই বছরের ৭ নভেম্বর।
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসন হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিভি লটারিতে জন্মদেশ বা ‘নেটিভিটি’ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন কি না, সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। ডিভি কর্মসূচিতে যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন দেশে জন্ম হয়েছে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী বা বাবা-মায়ের জন্মদেশের মাধ্যমে যোগ্যতা পাওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হয়।
আরেকটি বিষয় নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা যায়। বাংলাদেশ ডিভি-২০২৬-এর জন্য অযোগ্য হলেও এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব ধরনের অভিবাসন পথ বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং অন্যান্য বৈধ অভিবাসন বা ভিসা ব্যবস্থা ডিভি লটারির থেকে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্বাচিত প্রার্থীদের ভিসা বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়সীমার পর ডিভি-২০২৬-এর অধীনে ভিসা দেওয়া যায় না।
বর্তমান তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডিভি-২০২৬-এর যোগ্য দেশগুলোর তালিকা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে সরকারি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশকে স্পষ্টভাবে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। একই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানও রয়েছে।
তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—কেউ যদি এখন অর্থের বিনিময়ে ‘ডিভি-২০২৬-এ নতুন করে আবেদন করিয়ে দেওয়ার’ বা ‘বাংলাদেশের জন্য ডিভি-২০২৬ খুলে গেছে’ বলে দাবি করে, তাহলে সেটি বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই মার্কিন সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেও ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিকে ঘিরে প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং জানিয়েছে, কিছু ওয়েবসাইট ও ই-মেইল সরকারি তথ্যের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকা এবং সরকারি উৎস ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।