লস অ্যাঞ্জেলেসে এনবিসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩
লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সংগ্রহের কাজে থাকা এনবিসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে এনবিসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সংগ্রহের কাজে থাকা একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারটি এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সংবাদ সংগ্রহে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে পরে নিশ্চিত করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে হেলিকপ্টারটি একটি বাণিজ্যিক ভবনের কাছে একটি পার্কিং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। আগুনের ঘটনায় আশপাশের চারটি গাড়ি ও দুটি স্টোরেজ কনটেইনারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার সময় এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংবাদিকরা কাছাকাছি ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় একটি গাড়ি শহরের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর কিছু সময় পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সংবাদ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের উপস্থাপক কোলিন উইলিয়ামস সরাসরি সম্প্রচারে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে জানান, তারা বুঝতে পেরেছেন যে এটি তাদের সংবাদ হেলিকপ্টার এবং তারা সেটির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছেন। পরে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে সম্প্রচার সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন হেলিকপ্টারের বাইরে, পার্কিং এলাকায় ছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাকি নিহতদের মধ্যে কারা হেলিকপ্টারের ভেতরে ছিলেন, তা প্রাথমিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না।
পরবর্তীতে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেস নিশ্চিত করে যে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল তাদের ‘নিউজচপার ৪’, যা অ্যাঞ্জেল সিটি এয়ার পরিচালনা করত। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করছে।