হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি মন্ত্রিসভার কঠোর বার্তা

হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় ক্ষুব্ধ সৌদি মন্ত্রিসভা, বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর বার্তা দিল।

হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি মন্ত্রিসভার কঠোর বার্তা

হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি মন্ত্রিসভার কঠোর বার্তা


সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হামলাগুলোকে ইচ্ছাকৃত বলে উল্লেখ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে সৌদি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর হুথিদের অব্যাহত হামলার নিন্দা করেছে। সৌদি সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষা এমন নীতি, যা কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।

বৈঠকে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মন্ত্রিসভার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক, বাসিন্দা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা নতুন করে বেড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, হুথিদের হামলায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ এলাকায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আবহা, খামিস মুশাইত ও জাজানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে এবং কিছু হামলায় জাতীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে।

৮ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছিল।

সৌদি আরবের বাইরে থেকেও সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৮ সেপ্টেম্বরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইইউ।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুধু সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। বাব আল-মান্দাব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন সংঘাতে তুলনামূলকভাবে উত্তেজনা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ ও হামলার মাত্রা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

সৌদি মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বক্তব্যে সরাসরি কোনো নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আত্মরক্ষার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই বৈঠকে সৌদি নেতৃত্ব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংলাপ, সহযোগিতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর