সামুদ্রিক পথ বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করল কাতার

বিশ্বজুড়ে জলপথ অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব ও বাণিজ্য সংকট নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কাতারি প্রতিনিধি।

সামুদ্রিক পথ বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করল কাতার

সামুদ্রিক পথ বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করল কাতার


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও কৌশলগত জলপথসমূহে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববাসীকে এই সংকটকে নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বা সাধারণ ঘটনা হিসেবে মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার সরকার।


মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি পরিবহনের স্থায়িত্ব এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সামুদ্রিক সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ইব্রাহিম আল-হাশমি তার বক্তব্যে বলেন, পুরো বিশ্ব ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী আংশিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে অবরুদ্ধ থাকার কারণে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। হরমুজের এই চলমান সংকটের মধ্যে যদি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালীও নতুন করে অবরুদ্ধ বা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, তবে তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের ওপর এক নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে আনবে।


তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যে চরম ধকল সহ্য করছে, তাই হরমুজের পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর নতুন সংকট সহ্য করার সামর্থ্য কারো নেই। এই দুটি কৌশলগত জলপথ বিশ্ব বাণিজ্যের মূল ধমনী হিসেবে কাজ করে। যদি এই দুই পথেই নৌচলাচল স্থায়ীভাবে ব্যাহত হয়, তবে বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে, তা কাটিয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।


কাতার সবসময়ই আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, কূটনীতি এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়ে আসছে। আল-হাশমি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো জটিল সংকটের টেকসই সমাধান যুদ্ধ বা অবরোধের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়; এর একমাত্র কার্যকর পথ হলো পারস্পরিক আলোচনা ও কূটনৈতিক চুক্তি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কাতার তার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করছে যাতে সকল পক্ষের সম্মতিতে একটি সর্বসম্মত এবং টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা যায়।


তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কোনো একক দেশের বিষয় নয়, এটি সমস্ত বিশ্বের সম্মিলিত দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী সমুদ্রপথে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের অধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে। কোনো গোষ্ঠী বা দেশের একক সামরিক পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য জিম্মি হতে পারে না।


বক্তব্যের শেষে তিনি জানান, আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাতারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে। বিশ্বনেতাদের সাথে দোহা প্রতিনিধিদলের আলোচনার শীর্ষ তালিকায় থাকবে সামুদ্রিক নিরাপত্তার এই চরম সংকট। বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং আলোচনার পথ কখনোই বন্ধ হতে দেবে না। একই সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর