আইসকে সহায়তা নয়, আটক ব্যক্তিকে ছাড়ার নির্দেশ নিউইয়র্ক শেরিফের
নিউইয়র্কে আইসের আটক-অনুরোধ নিয়ে কংগ্রেসের শুনানিতে বিস্ফোরক মন্তব্য শেরিফের। বললেন, স্থানীয় নীতির কারণে আটক ব্যক্তিকে ‘পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দিতে’ হয়।
আইসকে সহায়তা নয়, আটক ব্যক্তিকে ছাড়ার নির্দেশ নিউইয়র্ক শেরিফের
নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের এক শুনানিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুনানিতে ব্রুম কাউন্টির শেরিফ ফ্রেড আখশার এমন একটি মন্তব্য করেন, যা নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাউস জুডিশিয়ারির অভিবাসনবিষয়ক উপকমিটির শুনানিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জিম জর্ডান শেরিফ আখশারকে প্রশ্ন করেন, অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা যখন কোনো আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আটক-অনুরোধ পাঠায়, তখন নিউইয়র্কের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয় কী।
জবাবে শেরিফ আখশার সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, তাকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দিন।” তার এই মন্তব্য শুনানিতে তাৎক্ষণিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে।
আখশারের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নিউইয়র্কের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের সীমারেখা। নিউইয়র্কের তথাকথিত নিরাপদ-আশ্রয় নীতির কারণে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফদের ওপর কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলের কার্যালয়ের অবস্থান হলো, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘স্থানীয় পুলিশ, স্থানীয় অপরাধ’ আইনের আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনে ব্যবহার করা যাবে না। ফলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুরোধ পাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কতটা সহযোগিতা করতে পারবে, তা নিয়ে আইনগত ও নীতিগত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিযান এবং স্থানীয় সহযোগিতার ঘাটতি নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করে আসছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের, ‘রটেন অ্যাপল অভিযান’-এর আওতায় ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এসব গ্রেপ্তার নিয়ে নিউইয়র্কের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও ভিন্ন। তাদের আপত্তি হলো, গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরাসরি ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। ফলে কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
কংগ্রেসের ওই শুনানিতে শেরিফ আখশারের মন্তব্য মূলত এই বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফদের দায়িত্ব কোথায় শেষ হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব কোথা থেকে শুরু হবে—এ প্রশ্নই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কে শেরিফ আখশারের মন্তব্য তাই নতুন করে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।