ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া, ব্রঙ্কসে একজনের মৃত্যু
নিউইয়র্কে নতুন স্বাস্থ্য উদ্বেগ! সাউথ ব্রঙ্কসে লেজিওনিয়ার্স রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের একটি কুলিং টাওয়ারসহ মোট ১০টি টাওয়ারে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন মিলেছে। তবে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম থেকেই রোগ ছড়িয়েছে এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সংক্রমণের উৎস খুঁজতে তদন্ত চলছে।
ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া, ব্রঙ্কসে একজনের মৃত্যু
সাউথ ব্রঙ্কসে লেজিওনিয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাব ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের একটি কুলিং টাওয়ারে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকার মোট ১০টি কুলিং টাওয়ারের প্রাথমিক পরীক্ষায় এই ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ক্লাস্টারে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে সংক্রমণের উৎস এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।
ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের কুলিং টাওয়ারে ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—বর্তমানে আক্রান্ত কোনো রোগীর সঙ্গে স্টেডিয়ামের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিসও জানিয়েছে, স্টেডিয়ামকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ গত ১০ সেপ্টেম্বর সাউথ ব্রঙ্কসের মেলরোজ ও মরিসানিয়া এলাকায় সম্ভাব্য কমিউনিটি ক্লাস্টার শনাক্ত করার পর তদন্ত শুরু করে। আক্রান্ত এলাকার জিপ কোড ১০৪৫১ ও ১০৪৫৬। ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামও ১০৪৫১ এলাকার মধ্যে পড়ে।
তদন্তের অংশ হিসেবে এলাকার ২৪টি কুলিং টাওয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পিসিআর পরীক্ষায় এর মধ্যে ১০টির নমুনায় লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ পাওয়া যায়। এসব টাওয়ারের মালিকদের ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। পিসিআর পরীক্ষায় লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ শনাক্ত করা গেলেও ব্যাকটেরিয়াটি জীবিত নাকি মৃত, তা বোঝা যায় না। শুধু জীবিত লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়াই মানুষের লেজিওনিয়ার্স রোগের কারণ হতে পারে।
এই কারণে আরও বিস্তারিত কালচার পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই পরীক্ষার ফল পেতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফল পাওয়ার পর কোন টাওয়ারে জীবিত ব্যাকটেরিয়া ছিল এবং রোগীদের সংক্রমণের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ইয়াঙ্কিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কুলিং টাওয়ারের নমুনায় ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে সেটি রোববার সকালে পানি বের করে পরিষ্কার করা হয়েছে। দলটি আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালে স্টেডিয়ামে নতুন কুলিং টাওয়ার বসানো হয়েছিল এবং সেগুলোর পানির মান ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।
লেজিওনিয়ার্স রোগ মূলত এক ধরনের গুরুতর নিউমোনিয়া। উষ্ণ পানিতে বেড়ে ওঠা লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া থেকে রোগটি হয়। দূষিত পানির অতি ক্ষুদ্র কণা বা বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। বড় ভবনের কুলিং টাওয়ার এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাব্য উৎস হতে পারে।
তবে এটি করোনা বা ফ্লুর মতো একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্ত এলাকায় কলের পানি পান করা, গোসল করা এবং এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা নিরাপদ। যে ১০টি ভবনের কুলিং টাওয়ারের পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে, সেসব ভবনের ভেতরে থাকার কারণেও বাড়তি ঝুঁকির কথা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
রোগটির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসার দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দ্রুত শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়।
৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ, ধূমপায়ী বা ভ্যাপ ব্যবহারকারী, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষভাবে বলেছে, যারা আগস্টের শেষ দিক থেকে মেলরোজ বা মরিসানিয়া এলাকায় থাকছেন, কাজ করছেন অথবা সেখানে গিয়েছিলেন, তাদের জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বারবার লেজিওনিয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার কথাও বলেছেন তিনি।
এর আগে চলতি গ্রীষ্মে ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডেও বড় ধরনের লেজিওনিয়ার্স প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে সেই ক্লাস্টারে ৯৪ জন আক্রান্ত এবং ১১ জন মারা যান।
সাউথ ব্রঙ্কসের বর্তমান ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—সংক্রমণের প্রকৃত উৎস কোথায়? কালচার পরীক্ষার ফল এবং রোগীদের নমুনার সঙ্গে পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার তুলনা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তাই ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামের কুলিং টাওয়ারে ব্যাকটেরিয়ার চিহ্ন পাওয়া গেলেও এখনই “ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম থেকে রোগ ছড়িয়েছে” বলা সঠিক হবে না। নিশ্চিত তথ্য হলো, স্টেডিয়ামের একটি টাওয়ারসহ মোট ১০টি কুলিং টাওয়ারের প্রাথমিক পরীক্ষায় লেজিওনেলার উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সাউথ ব্রঙ্কসের ক্লাস্টারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার উৎস নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।