চার্লি কার্কের মূর্তিতে লাল রং, উন্মোচনের তিন দিনেই ভাঙচুর

উন্মোচনের মাত্র তিন দিন পরই চার্লি কার্কের স্মৃতিমূর্তিতে লাল রং ছিটিয়ে ভাঙচুর! ঘটনায় ক্ষুব্ধ তার স্ত্রী এরিকা কার্ক। কে বা কারা জড়িত, তা জানতে চলছে তদন্ত।

চার্লি কার্কের মূর্তিতে লাল রং, উন্মোচনের তিন দিনেই ভাঙচুর

চার্লি কার্কের মূর্তিতে লাল রং, উন্মোচনের তিন দিনেই ভাঙচুর


যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর সদর দপ্তরের বাইরে স্থাপন করা চার্লি কার্কের স্মৃতিমূর্তিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আট ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের মূর্তিটিতে লাল রং ছিটিয়ে দেওয়া হয়। মূর্তিটি স্থাপনের মাত্র তিন দিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে ভাঙচুরের বিষয়টি নজরে আসে। ঘটনাটি এখন ফিনিক্স পুলিশ তদন্ত করছে।

চার্লি কার্কের মৃত্যুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ১০ সেপ্টেম্বর ফিনিক্সে মূর্তিটি উন্মোচন করা হয়েছিল। মূর্তিতে তাকে তার পরিচিত পোশাকে ও গলায় ক্রুশের চিহ্নসহ দেখানো হয়েছে। এটি টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর সদর দপ্তরের বাইরে স্থাপন করা হয়েছিল এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি তার জীবন ও উত্তরাধিকার স্মরণ করার একটি উদ্যোগ।

ভাঙচুরের ঘটনায় মূর্তির মুখ, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল রং লাগানো হয়েছে। মূর্তির পাশের একটি স্মারক ফলকও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সেখানে চার্লি কার্কের ছবি এবং খ্রিস্টীয় বার্তা ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফলকের যিশুর নাম ও ক্রুশের চিহ্নের ওপরও লাল দাগ দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা মূর্তিটি পুনরুদ্ধার করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্মারক ফলকগুলোও প্রতিস্থাপন করবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশকে দায়ীদের শনাক্ত করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

চার্লি কার্কের স্ত্রী ও টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর প্রধান নির্বাহী এরিকা কার্কও ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তার স্বামীর মূর্তি ভেঙে বা রং দিয়ে ঢেকে তার উত্তরাধিকার মুছে ফেলা যাবে না। বরং এমন ঘটনা তাদের আরও দৃঢ়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে বলেও জানান তিনি।

এরিকা আরও জানান, চার্লি কার্ক বিশ্বাস করতেন কোনো মূর্তি ভেঙে ফেলা হলে তার বদলে আরও মূর্তি তৈরি করা উচিত। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় স্মারকটিও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।

ফিনিক্স পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে স্মৃতিসৌধে ভাঙচুরের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান এবং তদন্ত শুরু করেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বা কারও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য চেয়েছে।

চার্লি কার্ক ছিলেন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটা ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর এক বছর পূর্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানোর নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন স্মৃতিমূর্তি উন্মোচনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কারা এই ভাঙচুর করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর