অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর ও দুর্নীতিবাজ, তীব্র ক্ষোভ জাতীয় সংসদের স্পিকারের

ভোলায় এক মতবিনিময় সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও লুটপাট নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।

অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর ও দুর্নীতিবাজ, তীব্র ক্ষোভ জাতীয় সংসদের স্পিকারের

অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর ও দুর্নীতিবাজ, তীব্র ক্ষোভ জাতীয় সংসদের স্পিকারের


ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং বিগত সরকারের সময়কালের অর্থ পাচার নিয়ে কড়া বক্তব্য পেশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, আমাদের দেশে দুর্নীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।  
বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, একটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামো যেখানে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা, সেখানে দুর্নীতির মাত্রা সীমাহীন রূপ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে নানামুখী ঘুষ বাণিজ্য ও লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠে গেছে। বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেসব অপরাধের বিচার স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়ে থাকে, আমাদের দেশে বছরের পর বছর বিচার চেয়েও ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পান না।  


বিগত সরকারের সময়কালের অর্থ পাচার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অর্থ পাচারের কারণে দেশের কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফিলিপাইনে এ ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাজার মুখোমুখি করা হলেও আমাদের দেশে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের অভাব দেখা গেছে। সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।  


প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনো পুরনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা রয়ে গেছেন, যার ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক বার্তা ও প্রকৃত চিত্র সঠিকভাবে জনগণের সামনে উঠে আসছে না।  
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে পূর্বের অসম বাণিজ্য চুক্তিগুলোর কারণে দেশীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শুল্কবিহীন পণ্য পরিবহন, চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্রাধিকারমূলক ব্যবহারের নীতিমালা এবং সীমান্তে ধারাবাহিক সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবসময় সবার উপরে রাখা প্রয়োজন।  


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর