ওয়ারশগামী ট্রেনে রুশ ড্রোনের আঘাত, অল্পের জন্য বাঁচলেন যাত্রীরা

পোল্যান্ডের পথে ছুটছিল যাত্রীবাহী ট্রেন, হঠাৎ রুশ ড্রোনের আঘাতে কেঁপে উঠল লোকোমোটিভ! সীমান্তের কাছে ভয়াবহ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ট্রেনের যাত্রীরা।

ওয়ারশগামী ট্রেনে রুশ ড্রোনের আঘাত, অল্পের জন্য বাঁচলেন যাত্রীরা

ওয়ারশগামী ট্রেনে রুশ ড্রোনের আঘাত, অল্পের জন্য বাঁচলেন যাত্রীরা


ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলার সময় পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের লোকোমোটিভে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের ভলিন অঞ্চলে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এই হামলা হয়। ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটি কিয়েভ থেকে ওয়ারশের দিকে যাচ্ছিল এবং সীমান্ত থেকে মাত্র প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে থাকতেই ড্রোনের আঘাতে এর লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান উক্রজালিজনিতসিয়া জানায়, হামলার আগে রেলওয়ের একটি পর্যবেক্ষণ দল ট্রেনের চালক ও কর্মীদের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেয়। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে ড্রোনটি লোকোমোটিভে আঘাত করলেও ট্রেনে থাকা কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি।

ঘটনাটি ঘটে ইয়াহোদিন সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি এলাকায়। একই সময়ে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের আরও একটি এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াহোদিনের কাছে একটি হামলায় সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে একটি স্থাপনা ও একটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় নিরাপত্তার কারণে সীমান্ত পারাপার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পোলিশ কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় সতর্কতা জারি করে। সীমান্তের এত কাছে রুশ হামলার কারণে পোল্যান্ডের কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা দেওয়া হয় এবং দেশটির সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে যায়। তবে কোনো রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। পোলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার স্থানটি ছিল ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভেতরেই।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, পোল্যান্ড সীমান্তের এত কাছে হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের খুব কাছেই রাশিয়ার হামলার ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও পশ্চিমাঞ্চলের রেল ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে রুশ হামলার নিন্দা করেছেন।

রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো। মস্কোর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে ইউক্রেনে সামরিক পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোই হামলার লক্ষ্য ছিল। তবে যাত্রীবাহী ট্রেনের লোকোমোটিভে আঘাতের ঘটনায় বেসামরিক পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চল—যা সামনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে—রুশ ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বরের রাতের ব্যাপক হামলায় রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের ৪৫৩টি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। পশ্চিম ইউক্রেনের রেলপথ ও সীমান্তবর্তী অবকাঠামোয় হামলার ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে ইউরোপের যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যাত্রীবাহী ট্রেনটিতে হামলার স্থানটি পোল্যান্ডের সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। এতে সরাসরি পোল্যান্ডের ভূখণ্ড আক্রান্ত না হলেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের আরও কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, সেই আশঙ্কা আবারও সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর