রাশিয়ার গোপন সহায়তায় ইরানের ভয়ংকর সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রহস্য ফাঁস
ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য! রাশিয়ার সহায়তায় ইরান কি আরও শক্তিশালী সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে? বদলে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ।
রাশিয়ার গোপন সহায়তায় ইরানের ভয়ংকর সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রহস্য ফাঁস
রাশিয়া গোপনে ইরানকে উন্নত সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তি তৈরিতে সহায়তা করছে—ফাঁস হওয়া বেশ কিছু গোপন নথি ও বিভিন্ন রেকর্ডের ভিত্তিতে এমন তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে এমন একটি গোপন সামরিক প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে, যার লক্ষ্য ইরানের নিজস্ব উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
এই প্রকল্পের কোডনাম ছিল ‘সি৪৩০এল’। প্রকল্পটির আওতায় সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশলগত জ্ঞান এবং র্যামজেট ইঞ্জিন ব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। র্যামজেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণ ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় অনেক বেশি গতিতে উড়তে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সেটিকে শনাক্ত ও প্রতিহত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়ার প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ইরান নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে। ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে রুশ ও ইরানি কর্মকর্তাদের যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াত এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুশ সামরিক পেটেন্ট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত নথিও এই সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহারের জন্য ইরান ড্রোন সরবরাহ করেছে, আর এর বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প সেই সহযোগিতাকে আরও উচ্চ প্রযুক্তির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তি ইরানের হাতে কার্যকরভাবে চলে এলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুতগতির এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এমন প্রযুক্তি তেহরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
তবে ফাঁস হওয়া নথিতে প্রকল্পটির অস্তিত্ব ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও এর অর্থ এই নয় যে ইরান ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল মোতায়েন করেছে। প্রকল্পটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং ইরান বাস্তবে কতটা উন্নত অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও অনেক তথ্য গোপন রয়েছে। তাই এটিকে ইরানের সম্পূর্ণ নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করার খবর হিসেবে দেখার চেয়ে রাশিয়ার সহায়তায় দেশটির উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা বেশি সঠিক।
এই ঘটনা সামনে আসার পর রাশিয়া-ইরানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যদি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আদান-প্রদান আরও বাড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফাঁস হওয়া নথিগুলো তাই শুধু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়, বরং রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।